চীনের জনসংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন দেশটির কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, ২০২৫ সাল নাগাদ চীনের পরিবারগুলো আকারে আরও ছোট হবে এবং বেশির ভাগ নাগরিকের বয়স বেড়ে যাবে। তখন জনসংখ্যা আরও কমতে শুরু করবে।
মঙ্গলবার (২ আগস্ট) বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
একক দেশ হিসেবে চীনের জনসংখ্যা এখন বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে চীন সরকার “এক সন্তান নীতি” গ্রহণ করেছিল, যার প্রভাব পড়েছে চীনের জন্মহারে। ২০১৬ সালে চীন সরকার এই বিধিনিষেধ শিথিল করেছ, তার পরেও জনসংখ্যা কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়ছে না।
গত বছর চীন সরকার তিন সন্তান গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু তার পরও দেশটিতে পরিবারের আকার ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে এবং জন্মহার কমতে কমতে রেকর্ড স্পর্শ করেছে।
চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন গতকাল জানিয়েছে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। ২০২৫ সালের মধ্যে এই হার নেতিবাচক পর্যায়ে যাবে।
গত জানুয়ারিতেও চীনা কর্মকর্তারা একই ধরনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তারা বলেছিলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নেতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে প্রবেশ করবে।
গত কয়েক বছরে চীনে জন্মহার ১.৩ এর নিচে নেমে গেছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশটিতে বৃদ্ধ মানুষের সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে। তখন ৬০ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা ৩০% এর বেশি হবে।
এমন পরিস্থিতিতে চীনের কিছু অংশে কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে পরিবারবান্ধব নীতি প্রবর্তন করছে, যাতে জন্মহারের ধীরগতি মোকাবিলা করা যায়। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর হ্যাংজু সোমবার ঘোষণা করেছে, তিন সন্তানের পরিবার এখন থেকে আবাসন ভবিষ্য তহবিল ঋণের সর্বোচ্চ সীমা থেকে ২০% বেশি ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবে। নানচাং, চাংশাসহ অন্যান্য শহও এ রকম সহায়ক নীতি চালু করেছে।
চীনের জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঠেকাতে ১৯৮০ সালে চীনের শীর্ষনেতা দেং জিয়াওপিং “এক সন্তান নীতি” প্রবর্তন করেছিলেন।