বাইডেন: পোল্যান্ডে বিস্ফোরিত ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়া থেকে ছোড়া নাও হতে পারে

ইউক্রেন সীমান্তবর্তী ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্র পোল্যান্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় ইউরোপজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবারের এ ঘটনায় দুইজন নিহতের কথা জানিয়েছে পোলিশ সরকারের মুখপাত্র পিওটার মুলার।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (১৬ নভেম্বর) ইন্দোনেশিয়ার বালিতে জি-৭ জোটভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। 

বৈঠকে তিনি বলেন, “প্রাথমিক তথ্য বলছে পোল্যান্ডের বিস্ফোরণটি রাশিয়া থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে নাও হতে পারে।”

এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য পূর্ণাঙ্গ তদন্ত পর্যন্ত অপেক্ষার কথা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলো কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে।”

পোল্যান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এ মূহুর্তে ক্ষেপণাস্ত্র পড়ার বিষয়টিকে “পোল্যান্ডের ওপর রাশিয়ার হামলা” হিসেবে বিবেচনা করছে না। ক্ষেপণাস্ত্র পড়েছে পোল্যান্ডের পিওদো গ্রামে। এটি ইউক্রেন সীমান্তের সঙ্গে লাগোয়া একটি গ্রাম।

পোলিশ সরকারের একজন মুখপাত্র জানান, হামলাটি রাশিয়ার কিনা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে বিস্ফোরণে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে পোল্যান্ড তার সামরিক ইউনিটের প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে। আমাদের ন্যাটো আর্টিকেল ফোর সক্রিয় করতে হবে কিনা তা যাচাই করা হচ্ছে।

পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ দুদা সাংবাদিকদের বলেন, “ক্ষেপণাস্ত্র কে বা কারা ছুড়েছে এখনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ মুহূর্তে আমাদের কাছে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ নেই... এটি সম্ভবত রাশিয়ার তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ছিল, এর তদন্ত চলছে।”

ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবরে নড়েচড়ে বসেছে সামরিক জোট ন্যাটো। জোটের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান, এ ঘটনায় খতিয়ে দেখতেপোল্যান্ডের সঙ্গে গভীরভাবে সমন্বয় করছে ন্যাটো।

পোল্যান্ডে রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে দাবি করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রাতের নিয়মিত ভাষণে তিনি বলেন, “সন্ত্রাসীরা শুধু আমাদের সীমান্তেই সীমাবদ্ধ না।”

তাৎক্ষণিক বিবৃতিতে প্রত্যাখ্যান করে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইউক্রেন-পোলিশ সীমান্তের কাছে কোনো লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়নি।

হামলার খবরে নিজ দেশের জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের বৈঠক ডেকেছেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান। হাঙ্গেরি ইউক্রেনের প্রতিবেশি দেশ।

ন্যাটোর আর্টিকেল ৪ অনুযায়ী কোনো মিত্রের ওপর হামলা পুরো জোটের ওপর হামলা বলে বিবেচিত হবে। আর সেকারণে রাশিয়া যদি ন্যাটো সদস্য পোল্যান্ডে হামলা চালায় তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ৩০ জাতির পুরো জোটের সঙ্গে সরাসরি লড়াই শুরু হয়ে যেতে পারে।