কথায় আছে “বৃক্ষ তোমার নাম কী, ফলে পরিচয়”। ফল দিয়েই নাকি বেশির ভাগ গাছের পরিচয় জানা যায়, অনেকে গাছের নামই হয় ফল অনুসারে।
কিন্তু, একই গাছে যদি ১০ রকমের ফল ধরে তখন সেই গাছের নাম আর ফল দিয়ে নয়, চেনা যায় “রেকর্ডের গাছ” নামে।
অবিশ্বাস্য মনে হলেওঅস্ট্রেলিয়ার যুবক হুসাম সারাফ একই গাছে ১০টি ভিন্ন ধরনের ফলের ফলন করিয়ে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন।
কানাডার অটোয়াভিত্তিক সিবিসি রেডিও’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেকর্ড গড়া এই গাছটি হুসাম কীভাবে বিশ্বকে দেখেন তারই একটি রূপক প্রতিচ্ছবি।
অস্ট্রেলিয়ার শেপারটনের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাল্টিকালচারাল অফিসার সারাফ ছোট থেকেই গ্রাফটিং বা গাছের কলম করতে আগ্রহী ছিলেন।
“অ্যাজ ইট হ্যাপেনস”-এর উপস্থাপক ক্যারল অফকে তিনি বলেন, “অস্ট্রেলিয়ার সংস্কৃতিকে একত্রে আনার রূপক হিসেবেই আমি একটি গাছে কয়েকটি ফল একত্র করেছি।”
“মাতৃপ্রকৃতিই আমাদের সবাইকে একত্রিত করে। আমরা রঙ, সংস্কৃতি বা ঐতিহ্যে কতটা আলাদা তা মুখ্য ব্যাপার নয়। আমরা এক এবং আমরা একে অপরকে এক হিসেবে সম্মান করতে পারি এটিই প্রধান বিষয়,” সারাফ ব্যাখ্যা করেন।
একটি গাছে সবচেয়ে বেশি ধরনের ফলের ফলন করিয়ে সারাফ গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছেন। সারাফের গাছে ১০টি জাতের ফল ধরলেও তিনি পাঁচটি স্বতন্ত্র প্রজাতির জন্য রেকর্ড গড়েছেন।
সারাফের গাছে সাদা ও হলুদ নেকটারিন (এক ধরনের পিচ জাতীয় ফল), সাদা ও হলুদ পিচ ফল, এপ্রিকট, পিচকট, কাঠবাদাম, চেরি, লাল ও সোনালি পাম (এক ধরনের বরইজাতীয় ফল) রয়েছে।
গাছটির ১০ প্রজাতির ফলের মধ্যে কিছু ফল আলাদা আলাদা সময়ে এবং কিছু ফল একই সঙ্গে ধরে।
সারাফ জানান, ইরাকের স্কুলে পড়ার সময় তিনি প্রথম ফল গাছে কলম করার প্রাথমিক বিষয়গুলো শিখেছিলেন। পরবর্তীতে, ছোটবেলার সেই শখটিই অস্ট্রেলিয়ায় আসার পর নেশাতে পরিণত হয়েছে।
তিনি নতুন প্রজন্মকে এমন কিছু শেখাতে চান যা জলবায়ু পরিবর্তনে সাহায্য করতে পারে এবং সেটি ভবিষ্যতের জন্যও ভালো কিছু বয়ে আনে।
তাই সারাফের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাগানের কাজ শেখানোর ক্লাস নেওয়া।
সারাফ বলেন, “আগের রেকর্ডটি কুয়েতে ছিল। একসঙ্গে ২৮৬ জনকে বাগান গড়ার পাঠদান দেওয়া হয়েছিল। আমি আমার ক্লাসে একসঙ্গে ১ হাজার জনকে পাঠদান করতে চাই।”