ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক সালমান রুশদির শরীরে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। তিনি ভেন্টিলেটর সাপোর্টে (কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার প্রক্রিয়া) রয়েছেন, কথা বলতে পারছেন।
অ্যান্ড্রু ওয়াইলি নামে রুশদির এক কর্মকর্তার বরাতে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “দা স্যাটানিক ভার্সেস”র রচয়িতা ঔপন্যাসিক সালমান রুশদি একটি চোখ হারাতে পারেন।
অ্যান্ড্রু ওয়াইলি বলেন, “সালমান সম্ভবত একটি চোখ হারাতে পারেন। তার বাহুর স্নায়ু বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তার পাকস্থলী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে ছুরি হামলার শিকার হন সালমান রুশদি। শুক্রবার (১২ আগস্ট) নিউইয়র্কের শিটোকোয়া ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠানমঞ্চে কথা বলছিলেন তিনি। এ সময় তার ঘাড়ে এক হামলাকারী ছুরিকাঘাত করেন। পরে হেলিকপ্টারে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। এই ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ হাদি মাতার (২৪) নামে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। পুলিশ বলছে, হামলাকারী মঞ্চে উঠে রুশদি ও তার সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর ওপর হামলা চালান। রুশদির ঘাড়ে ছুরি দিয়ে বেশ কয়েকটি আঘাত করা হয়েছে। পরে হামলাকারীকে ধরে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, হামলাকারীর মুখে কালো মাস্ক ছিল। তিনি দর্শকদের মধ্য থেকে বেরিয়ে মঞ্চে উঠে পড়েন ও রুশদির ওপর হামলা চালান।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত বুকার পুরস্কারজয়ী ৭৫ বছর বয়সী লেখক রুশদি ১৯৮১ সালে তার লেখা বই “মিডনাইটস চিলড্রেন” দিয়ে খ্যাতি অর্জন করেন। কিন্তু ১৯৮৮ সালে তার চতুর্থ বই “দ্য স্যাটানিক ভার্সেস”র জন্য তাকে ৯ বছর লুকিয়ে থাকতে হয়েছিল।
“স্যাটানিক ভার্সেস” উপন্যাসে ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন কট্টর মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা। এটি প্রকাশের পর থেকে রুশদিকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন তারা। বইটি প্রকাশের এক বছর পর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি রুশদির মৃত্যুদণ্ডের ফতোয়া জারি করেন। সেই সঙ্গে তার মাথার দাম হিসেবে ৩ মিলিয়ন (৩০ লাখ) ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেন।
রুশদির ওপর হামলার ঘটনায় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনসহ দেশটির রাজনীতিবিদেরা নিন্দা জানিয়েছেন।