খোলা হলো ভেন্টিলেটর, কথা বললেন সালমান রুশদি

ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক সালমান রুশদির ভেন্টিলেটর (কৃত্রিমভাবে শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যবস্থা) সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি কথাও বলতে পারছেন।

রবিবার (১৪ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সালমান রুশদির সহকারী অ্যান্ড্রু ওয়াইলির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘‘সালমান রুশদি এখন স্থিতিশীল রয়েছেন। তবে, তার একটি চোখ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।’’

তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছুই জানাননি তিনি।

শুক্রবার নিউইয়র্কে শিটোকোয়া ইনস্টিটিউটে সাহিত্যবিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার আগে সালমান রুশদির ওপর হামলা হয়।

 যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে শিটোকোয়া ইনস্টিটিউটের মঞ্চে সালমান রুশদির ভাষণ শুরুর আগমুহূর্তে তার ওপর হামলা হয়। নিউ জার্সির বাসিন্দা হাদি মাতার (২৪) মঞ্চে দৈৗড়ে এসে তার ওপর ছুরি চালিয়ে হামলা করেন। তাকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাদি মাতারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট খতিয়ে প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে তিনি “শিয়া উগ্রবাদ” এবং ইরানের ইসলামী বিপ্লবী বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। 

তবে তার সঙ্গে সরাসরি কোনো যোগাযোগ ছিল না। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তার ফোনে ২০২০ সালে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত ইরানি কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির ছবি পেয়েছে।

রুশদির ওপর হামলা হওয়ার সময় অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ছিলেন প্রায় আড়াই হাজার দর্শক। হামলার সময় তাৎক্ষণিকভাবে অনেকে ঠিক কী ঘটছে, তা বুঝতে পারছিলেন না। সালমান রুশদি মেঝেতে গড়িয়ে পড়ার পর দর্শকদের কেউ কেউ তার কাছে ছুটে গেছেন।

ঘটনার সময় দর্শকসারিতে ছিলেন রাব্বি চার্লস সাভেনর নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, “ওই ব্যক্তি (হামলাকারী) দৌড়ে মঞ্চে উঠে যান এবং রুশদিকে আঘাত করতে শুরু করেন।”

মার্কিন একটি বার্তা সংস্থার প্রতিবেদকের বরাতে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, সালমান রুশদিকে ১০ থেকে ১৫ বার আঘাত করা হয়েছে।

একটি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাভেনর বলেন, “প্রথমে ভাবছিলাম কী চলছে? এরপর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পুরোপুরি স্পষ্ট হয় যে তাকে পেটানো হচ্ছে।’ সাভেনরের মতে, প্রায় ২০ সেকেন্ড ধরে হামলা চলেছে।”

কাথলিন জোন্স নামের আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “হামলাকারী কালো রঙের পোশাক পরা ছিলেন। তার মুখে কালো মুখোশ ছিল।”

ঘটনার সময় দর্শকসারিতে ছিলেন কাথলিন। তিনি বলেন, “আমরা ভাবছিলাম এটি হয়তো অভিনয়। এ লেখককে ঘিরে যে এখনো অনেক বিতর্ক আছে, সেটাই হয়তো দেখানোর চেষ্টা চলছে। তবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই প্রমাণিত হয়, যা ভাবছি তা ঠিক নয়।”

একটি মার্কিন বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই সালমান রুশদি মেঝেতে গড়িয়ে পড়েন। হামলাকারী তখন থেমে যান।

কয়েকজন লোক তখন সালমান রুশদিকে ঘিরে ফেলেন এবং তার পা ওপরের দিকে তুলে ধরেন। ধারণা করা হচ্ছে, রুশদির বুকে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টায় তারা এমনটা করেছেন।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক সালমান রুশদি ২০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। ১৯৮১ সালে “মিডনাইট’স চিলড্রেন’ নামক বইয়ের জন্য বুকার পুরস্কার জেতেন তিনি। 

তবে ১৯৮৮ সালে তার চতুর্থ বই “দা স্যাটানিক ভার্সেস”-এর জন্য তাকে ৯ বছর লুকিয়ে থাকতে হয়েছিল। যুক্তরাজ্যে বসবাসকালে বেশির ভাগ সময় তাকে সরকারের সুরক্ষা নিয়ে থাকতে হয়েছে।

“স্যাটানিক ভার্সেস” উপন্যাসে ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করা হয়েছে বলে মনে করেন মুসলিমরা। এটি প্রকাশের পর থেকে সালমান রুশদি হত্যার হুমকি পেয়ে আসছিলেন। 

বইটি প্রকাশের এক বছর পর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা আলী খামেনি সালমান রুশদির মৃত্যুদণ্ডের ফতোয়া জারি করেন। সেই সঙ্গে তার মাথার দাম হিসেবে ৩ মিলিয়ন (৩০ লাখ) ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেন।