গত ১২ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে শিতৌকা ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠানের মঞ্চে ছুরিকাঘাতের শিকার হন ৭৫ বছর বয়সী প্রখ্যাত লেখক সালমান রুশদি। এ ঘটনায় হাদি মাতার (২৪) নামে নিউ জার্সির এক বাসিন্দাকে আটক করে স্থানীয় পুলিশ।
হামলাকারী হাদি মাতার বুধবার (১৭ আগস্ট) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এতবার আঘাতের পরও রুশদি বেঁচে আছেন শুনেই তিনি আশ্চর্য হয়েছেন।
নিউইয়র্ক পোস্টের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, হাদি মাতারকে প্রশ্ন করা হয়েছিল তিনি রুশদির কোনো বই পড়েছেন কিনা; এর উত্তরে হাদি বলেছেন, “আমি কয়েকটা পাতা পড়েছি। আমি তাকে একদম পছন্দ করি না। আমার মতে, তিনি ভালো মানুষ নন। তিনি ইসলামকে আক্রমণ করেছেন, ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাসে আঘাত করেছেন।”
সালমান রুশদি/ সংগৃহীত১৯৮৮ সালে প্রকাশিত রুশদির চতুর্থ উপন্যাস “স্যাটানিক ভার্সেস” বিশ্বজুড়ে বিতর্কের জন্ম দেয়। এর পরের বছর অর্থাৎ ১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি এই লেখকের মৃত্যুদণ্ডের ফতোয়া ঘোষণা করেন। সেসময় রুশদির মাথার দাম ঘোষণা করা হয় ৩০ লাখ ডলার। ইরানের সেই ঘোষণা এখনো বহাল আছে।
তবে সন্দেহভাজন এই আততায়ী রুশদির ওপর হামলা করতে ১৯৮৯ সালের সেই আদেশ বা ফতোয়া দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সাক্ষাৎকারে হাদি বলেন, “আমি এ বিষয়ে যা বলতে পারি তা হলো- আমি আয়াতুল্লাহকে সম্মান করি। আমি মনে করি তিনি একজন মহান ব্যক্তি। ইরানের বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ ছিল না। চলতি বছরের শুরুতে একটি টুইটের মাধ্যমে জানতে পারি, শাটাকোয়া ইনস্টিটিউশনের সাহিত্য সিরিজে বক্তৃতা করবেন রুশদি।”
উল্লেখ্য, সালমান রুশদির জন্ম ১৯৪৭ সালে মুম্বাইয়ে এক কাশ্মিরি মুসলিম পরিবারে, ভারত ভাগের ঠিক আগে আগে। ১৯৮১ সালে তার দ্বিতীয় উপন্যাস “মিডনাইটস চিলড্রেন” প্রকাশিত হলে লেখক হিসেবে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। শুধু যুক্তরাজ্যেই বইটির ১০ লাখ কপি বিক্রি হয়।
আরও পড়ুন-