চীনের ‘চাপ সামলাতে’ বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার মেয়াদ বাড়াচ্ছে তাইওয়ান

ইউরোপজুড়ে যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বব্যাপী ২০২২ সালটি বেশ আতঙ্কে কেটেছে। জনজীবনের নিরাপত্তা এবং একই সঙ্গে জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় প্রায় প্রত্যেক দেশকেই হিমশিম পরিস্থিতিতে ফেলেছে। 

নতুন বছর আসার আগেই এবার চীন-তাইওয়ান দ্বন্দ্ব ফুঁসে উঠেছে। সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) দ্বীপ রাষ্ট্র তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ তোলে, চীন আকাশে এবং সমুদ্রে বৃহৎ সামরিক অনুপ্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। চীনের বিমানবাহিনীর ৭১টি উড়োজাহাজ, যেগুলোর মধ্যে যুদ্ধবিমান এবং ড্রোন রয়েছে, ‍তাইওয়ানের “এয়ার ডিফেন্স আইডেন্টিফিকেশন জোনে” প্রবেশ করেছে।

চীন অবশ্য রবিবার দাবি করেছে, তাইওয়ান ও যুক্তরাষ্ট্রের উসকানির জবাব দিতে তারা তাইওয়ান ঘিরে “হামলার মহড়া” চালিয়েছে।

এবার চীনের সাম্ভব্য “হামলা মোকাবিলা” করার প্রস্তুতির কথা জানালো তাইওয়ান। দেশটি বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা বর্তমান চার মাস থেকে বাড়িয়ে এক বছর কারার পরিকল্পনা করছে। দেশটির একজন সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তার বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, দ্বীপটি ক্রমবর্ধমান চীনা সামরিক চাপের মুখে রয়েছে। এই চাপ মোকাবিলা করতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন প্রতিরক্ষা বিষয়ে আলোচনার জন্য জাতীয় নিরাপত্তা সভা আহ্বান করবেন।

সামরিক সংস্কারের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর সঙ্গে “যুদ্ধের নির্দেশনা প্রবর্তন”, সামরিক নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রশিক্ষণ বাড়ানো- প্রভৃতি বিষয় থাকবে। তবে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

তাইওয়ান নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও চীন তা মেনে নেয়নি। বরং বেইজিং তাইওয়ানকে তাদের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া অংশ মনে করে, যা একদিন পুনরায় মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে একত্রিত হবে।

বেইজিং-তাইপে উত্তেজনা বরাবরই ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তা অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে গত আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিসহ কয়েকজন কংগ্রেস সদস্যের তাইওয়ান সফরের কারণে।

গত ২৫ বছরের মধ্যে পেলোসিই ছিলেন তাইওয়ান সফর করা যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা। সেসময় তাইওয়ান ঘিরে নজিরবিহীন সামরিক মহড়া চালিয়ে চীন পেলোসির সফরের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। যাকে “সর্বোচ্চ উসকানি” বলে সমালোচনা করেছিলেন তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসেফ উ।

চীন অবশ্য সবসময়ই বলে আসছে, তাইওয়ানকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করবে।

এদিকে আবার তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কও খানিকটা জটিল। চীনের “এক চীন নীতি” অনুসরণ করে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেনি। তবে দেশটি তাইওয়ানের সবচেয়ে বড় সমর্থক। এবং তারা সবসময় তাইওয়ানের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের বড় ক্রেতাও তাইওয়ান। ওয়াশিংটন তাদের “তাইওয়ান রিলেশন অ্যাক্ট” এর অধীনে দ্বীপরাষ্ট্রটির কাছে অস্ত্র বিক্রি করে এবং তাদের প্রয়োজনে সামরিক সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।