জার্মানির উচ্চ পর্যায়ের একটি সংসদীয় প্রতিনিধিদল সোমবার (৯ জানুয়ারি) চার দিনের সফরে তাইওয়ানে পৌঁছেছে। জার্মান এমপিদের এই সফরকে ঘিরে তাইওয়ান প্রণালির চারপাশে আবারও সামরিক মহড়া চালিয়েছে চীন। এ নিয়ে গত এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বার মহড়া চালালো চীন।
এ ঘটনায় চীনের নিন্দা জানিয়েছে তাইওয়ান। এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রবিবার রাতে চীনের সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড এক বিবৃতিতে বলছে, তাদের বাহিনী তাইওয়ানের চারপাশে সাগর ও আকাশপথে একই সঙ্গে যুদ্ধপূর্ব প্রস্তুতি এবং যুদ্ধকালীন সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের মহড়া চালিয়েছে। স্থলভাগ ও সাগরপথে হামলাকে প্রাধান্য দিয়ে এ মহড়া চালানো হয়েছে।
বিবৃতিতে চীনা সেনাবাহিনী আরও বলছে, বহিরাগত শক্তি ও তাইওয়ানের স্বাধীনতাকামী বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডকে দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করার সক্ষমতা যাচাই করতে এ মহড়া চালানো হয়েছে।
সোমবার এ সামরিক মহড়া নিয়ে চীনের বিরুদ্ধে তাইওয়ান কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের দাবি, চীন ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে। তাইওয়ান প্রণালিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা চীন ও তাইওয়ান দুই পক্ষের জন্যই জরুরি।
সোমবার তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, ২৪ ঘণ্টায় তাইওয়ানের চারপাশে কার্যক্রম চালানো ৫৭টি চীনা উড়োজাহাজ ও ৪টি নৌজাহাজ শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে ২৮টি উড়োজাহাজ তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা অঞ্চলে ঢুকে পড়েছিল।
চীন মূলত গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে তার নিজস্ব ভূখণ্ড হিসেবে মনে করে এবং সেই দাবি জোরদার করার জন্য সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে চলছে।
২০২১ সালের অক্টোবরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছিলেন, মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে তাইওয়ানের একত্রীকরণ অবশ্যই সম্পূর্ণ করতে হবে। এ জন্য সামরিক পথে অগ্রসর হওয়ার বিষয়টিও খোলা রেখেছে বেইজিং।
অন্যদিকে চীনের প্রদেশ নয়, বরং নিজেকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র বলে মনে করে থাকে তাইওয়ান। চীনা প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যের জবাবে সেসময় তাইওয়ান জানায়, দেশের ভবিষ্যৎ তার জনগণের হাতেই থাকবে।
এছাড়া অস্ত্র বিক্রিসহ তাইওয়ানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার কারণে নানা সময়ই বেইজিং বিশেষভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছে।
অবশ্য বেশিরভাগ দেশের মতো তাইওয়ানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, তবে ওয়াশিংটন এই দ্বীপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র সরবরাহকারী এবং আন্তর্জাতিক সহয়তাকারী।