তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার কেভিন ম্যাককার্থির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এর প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাইওয়ানের আশপাশে তিনদিনের সামরিক মহড়া শুরু করেছে চীন।
শনিবার (৮ এপ্রিল) থেকে এই মহড়া শুরু হয়েছে। মহড়ার বিপরীতে শান্ত প্রতিক্রিয়া দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাইওয়ান।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, লস এঞ্জেলেসে মার্কিন স্পিকারের সঙ্গে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের বৈঠকের প্রতিক্রিয়ায় চীন মহড়া করবে বলে আগে থেকেই অনুমান করা হচ্ছিল; সাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার পরদিন চীনের ঘোষণায় সেই অনুমান সত্য হল।
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসেবে দেখে; দ্বীপটিকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ থেকেও পিছপা হবে না বলে হুঁশিয়ার করেছে বেইজিং।
ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ দুই নেতার চীন সফর শেষ হওয়ার কয়েকঘণ্টা পর বেইজিং তাইওয়ানের আশপাশে সামরিক মহড়া শুরুর ঘোষণা দেয়।
চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড জানায়, তারা “পরিকল্পনা অনুযায়ী” তাইওয়ান প্রণালী ও তাইওয়ানের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব অংশে যুদ্ধপ্রস্তুতি মূলক টহল ও “জয়েন্ট সোর্ড” মহড়া শুরু করতে যাচ্ছে। তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি ও বাইরের শক্তির মধ্যে মিথস্ক্রিয়া এবং উসকানির বিরুদ্ধে এটা গুরুতর হুঁশিয়ারি এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ।
এর প্রতিউত্তরে তাইওয়ান বলেছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে ও ব্যাপক মাত্রায় সতর্ক রয়েছে। সাইয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে চীন সামরিক মহড়ার জন্য “অজুহাত হিসেবে” কাজে লাগাচ্ছে, এসব সামরিক মহড়া অঞ্চলের “শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার” গুরুতর ক্ষতি করে আসছে। দ্বীপের নিরাপত্তা রক্ষায় যথাযথ প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে বলেও সতর্ক করেছে তারা।
রয়টার্স জানিয়েছে, শনিবার ভোরে দ্বীপটির এ মন্ত্রণালয় আগের ২৪ ঘণ্টায় তাইওয়ানের আকাশ সুরক্ষা অঞ্চলে ৪টি চীনা আকাশযান শনাক্ত করার কথা জানায়। তাইওয়ানের আকাশ সুরক্ষা অঞ্চলে চীনা আকাশযানের এই সংখ্যা “অস্বাভাবিক নয়”।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান মাইকেল ম্যাককল নেতৃত্বাধীন একটি দল এখন তাইওয়ান সফর করছেন। শনিবার সাইয়ের সঙ্গে ওই দলটির বৈঠক হওয়ার কথা।
চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির মুখপাত্র পিপলস ডেইলির শনিবারের এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, তাইওয়ানের বিচ্ছিন্ন হওয়ার যেকোনো ধরনের চেষ্টাকে আটকে দেওয়ার শক্তিশালী সক্ষমতা রয়েছে চীন সরকারের। চীন সরকারের নেওয়া সমস্ত পাল্টা ব্যবস্থা জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় চীনের বৈধ ও আইনি অধিকারের অন্তর্গত।
গত বছর আগস্টে তৎকালীন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরকে ঘিরেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। এর জবাবে চীন তাইওয়ানের আশপাশে ব্যাপক সামরিক মহড়া চালিয়েছিল।