প্রদর্শনীর জন্য রাখা কলা খেয়ে ফেললেন দর্শনার্থী

প্রদর্শনীর জন্য শিল্পকর্ম হিসেবে জাদুঘরের দেয়ালে টেপ দিয়ে টাঙিয়ে রাখা একটি কলা খেয়ে ফেলেছেন এক দর্শনার্থী।

বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের লেয়াম মিউজিয়াম অব আর্টে এ ঘটনা ঘটে।

কাণ্ডটি যিনি ঘটিয়েছেন তিনি একজন শিক্ষার্থী। তার নাম নোহ।

এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শিল্প প্রদর্শনীতে ইতালির বিখ্যাত শিল্পী মাউরিজিও কাতেলানের নানা শিল্পকর্ম রাখা ছিল। এরমধ্যে একটি ছিল দেয়ালে সাঁটা কলাটি। শিল্পী সেটির নাম দিয়েছেন “কমেডিয়ান”।

সেই প্রদর্শনীতে গিয়ে সবার সামনেই দেয়াল থেকে কলাটি নিয়ে খেয়ে ফেলেন নোহ। পরে খোসাটি আবার টেপ দিয়ে সেঁটে দেন।

কলা খেয়ে ফেলার একটি ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। বলেন, “সকালের খাবার খাননি। তাই ক্ষুধা পেয়েছিল তার।”

ওই ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দী করেন নোহের এক বন্ধু। সেটির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

ভিডিওতে দেখা যায়, নোহ দেয়াল থেকে কলাটি নিচ্ছেন। এ সময় কেউ একজন তাকে থামতে বলছিলেন। তবে নোহ সেদিকে কর্ণপাত না করে কলাটি খাওয়া শুরু করেন। তা দেখে আশপাশের সবাই স্তব্ধ হয়ে পড়েন। পরে নোহ সেখান থেকে চলে যান।

এদিকে ওই কলার স্থানে নতুন একটি কলা রেখেছে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ।

সাধারণত দুই থেকে তিন দিন পরপর এমনিতেই ওই কলা পরিবর্তন করা হয়।

পুরো বিষয়টি জানতে লেয়াম জাদুঘর কর্তৃপক্ষকে একটি ই-মেইল পাঠিয়েছিল বিবিসি। সেটির কোনো জবাব আসেনি।

তবে কলা খেয়ে ফেলার জন্য নোহের কাছ থেকে কোনো ক্ষতিপূরণ নেবে না বলে জানিয়েছে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া শিল্পী মাউরিজিও কাতেলানও বলেছেন, “এটা কোনো সমস্যা নয়।”

নোহ বলেন, “কাতেলানের শিল্পকর্ম তার কাছে নির্দিষ্ট একটি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ বলে মনে হয়েছে। তাই এই বিদ্রোহের বিরুদ্ধে আরেকটি বিদ্রোহ হতেই পারে।”

তার ভাষায়, “একটি শিল্পকর্মের ক্ষতি করাকে আরেকটি শিল্পকর্ম হিসেবে দেখা যেতে পারে। আমি ভেবেছিলাম, এটা চমৎকার হবে।”