দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর একটি স্বর্ণের খনিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ২৭ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আগুন থেকে দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সেখানে আর কেউ বেঁচে নেই বলেই ধারণা করছেন উদ্ধার কর্মকর্তারা।
কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, স্থানীয় সময় শনিবার (৬ মে) আরেকুইপা অঞ্চলের “লা এসপেরানজা” নামের ওই স্বর্ণের খনির ভেতর বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় পুলিশ ও পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস জানিয়েছে, পেরুর প্রত্যন্ত অঞ্চল আরেকুইপার লা এস্পেরানজা-১ খনিতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগে ২৭ জন মারা গেছেন।
সোনার খনিটি রাজধানী আরেকুইপা থেকে ১০ ঘণ্টা দূরত্বে অবস্থিত বলে জানিয়েছেন পাবলিক প্রসিকিউটর জিওভানি মাতোস। তিনি বলেন, “শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার পর খনির ভেতরে থাকা কাঠগুলো জ্বলে ওঠে।”
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিহত শ্রমিকেরা মাটির ১০০ মিটার নিচে ছিলেন। তবে অগ্নিকাণ্ডের সময় খনির ভেতরে কতজন শ্রমিক ছিলেন তা জানা যায়নি।
ইয়ানাকুইহুয়ার মেয়র জেমস ক্যাসকুইনো আন্দিনা বলেছেন, “বেশির ভাগ শ্রমিক ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে এবং আগুনে পুড়ে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
পেরুর প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এক টুইটার পোস্টে বলেছে, “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মীরা খনিতে উদ্ধারকাজ করছেন।”
খনিটি পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করতে ৩০জনের একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে রওয়ানা হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। তার আগেই সেখানে উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে।
স্থানীয় একটি পত্রিকার খবরে বলা হয়, নিখোঁজ খনি শ্রমিকদের স্বজনরা রোববার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কিন্তু তাদের দুর্ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ উৎপাদনকারী দেশগুলোর একটি পেরু। দেশটি প্রতিবছর ১০০ টনের বেশি স্বর্ণ উৎপাদন করে। যা বিশ্বের মোট সরবরাহের প্রায় ৪%। কয়েক দশকের মধ্যে এটা পেরুতে সবথেকে প্রাণঘাতী খনি দুর্ঘটনা।