বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছেন ফিনিশ প্রধানমন্ত্রী সানা মারিন ও তার স্বামী মার্কাস রাইকোনেন। ১৯ বছর একসঙ্গে থাকার পর এই ঘোষণা দিলেন তারা।
বুধবার এই দম্পতি আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদের আবেদন করেছেন। পরে নিজেদের ইনস্টাগ্রামে তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
পৃথক পোস্টে সানা-মার্কাস লিখেছেন, “আমরা ১৯ বছর ধরে একসঙ্গে আছি। আমাদের একটি মেয়েও আছে। এ জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। বাকি দিনগুলো আমরা খুব ভালো বন্ধু হয়ে থাকব।”
সানা মারিন বিশ্বের তরুণ সরকারপ্রধানদের একজন। তার বয়স এখন ৩৭ বছর। ৫ বছর বয়সী এক মেয়েশিশুর মা তিনি। ২০২০ সালের আগস্টে সানা মারিন তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী মার্কাসকে বিয়ে করেন।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব নেন সানা মারিন। তখন তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী প্রধানমন্ত্রী। প্রগতিশীল রাজনীতিক হিসেবে পরিচিতি রয়েছে তার। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবিলা এবং মহামারির ধাক্কা থেকে দেশ ও দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে লড়তে হয় তাকে।
ওই পরিস্থিতিতে বিয়ে করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন সানা মারিন। তখন ইনস্টাগ্রামে তিনি লিখেছিলেন, “আমরা আমাদের তারুণ্য একসঙ্গে কাটিয়েছি। একসঙ্গে পরিণত বয়সে প্রবেশ করেছি। আমরা প্রিয় মেয়ের পিতা-মাতা হয়েছি।”
সানা মারিনের প্রধানমন্ত্রিত্ব নিষ্কণ্টক ছিল না। নিজ পরিবারের সকালের নাশতার জন্য প্রতি মাসে ৩৬৫ ডলার বিল নিয়ে সমালোচিত হন তিনি। পরে সেই অর্থ ফেরত দেন সানা মারিন।
এছাড়া বন্ধুদের সঙ্গে সানা মারিনের নাচের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। বিশ্বজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। এর জেরে মাদকের পরীক্ষা করাতে হয়েছিল তাকে। যদিও সেই পরীক্ষায় উতরে যান সানা মারিন।
শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হচ্ছে সানা মারিনকে। কেননা, গত এপ্রিলের নির্বাচনে তার দল হেরেছে। ফিনল্যান্ডে সরকার গড়তে যাচ্ছে মধ্য-ডানপন্থী ন্যাশনাল কোয়ালিশন পার্টি ও জাতীয়তাবাদী ফিন্স পার্টির জোট। অন্যদিকে ভোটের হিসাবে সানা মারিনের স্যোশাল ডেমোক্রেটিক পার্টি তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।