ঘূর্ণিঝড় মোখার আঘাতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অন্তত ৬০ জন মারা গেছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৬ মে) দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছে।
এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
রবিবার ঘণ্টায় ২১৫ কিলোমিটার বাতাসের বেগ নিয়ে মিয়ানমার উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় মোখা। এটি ছিল এক দশকেরও বেশি সময়ে এই এলাকায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। ঝড়ের কারণে এখনও রাখাইন রাজ্যের বেশিরভাগ অংশে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
বু মা গ্রামের প্রশাসক কার্লো বলেন, “শতাধিক নিখোঁজ হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে।”
প্রত্যক্ষদর্শী ও বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পশ্চিম রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিতওয়ের ৯০% ধ্বংস হয়েছে।
সামরিক জান্তা সোমবার পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিল। তবে কোথায় নিহত হয়েছে তা উল্লেখ করেনি।
রাখাইনের নেতারা জানিয়েছেন, রাজ্যটিতে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত বু মা এবং নিকটবর্তী খাউং ডোকে কার গ্রামে অন্তত ৪১ জন মারা গেছেন।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এমআরটিভি জানিয়েছে, রাখাইনের রাজধানী সিতওয়ের উত্তরে রাথেদাউং এলাকার একটি গ্রামে মঠ ধসে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। পার্শ্ববর্তী গ্রামে একটি ভবনধসে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী অফিস বলেছে, তারা ঝড়ের আঘাতে রোহিঙ্গা শিবিরে বসবাসকারীদের মৃত্যুর খবর তদন্ত করছে।
তবে রোহিঙ্গা গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এখন পর্যন্ত তাদের কাছে কোনো ধরনের সহায়তা পৌঁছায়নি।
বাসারা গ্রামের বাসিন্দা ৩৮ বছর বয়সী কিয়াও স্বর উইন বলেন, “কোনো সরকার, কোনো সংস্থা আমাদের গ্রামে আসেনি। আমরা দু'দিন ধরে কিছু খাইনি... আমরা কিছুই পাইনি। বলতে পারি, কেউ জিজ্ঞাসা করতেও আসেনি।”