যুক্তরাজ্যের একটি স্কুলে শিশুদের পাঠ্যসূচিতে সমকামিতা সংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় বৃটিশ মুসলিম অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের একটি খবরে বলা হয়েছে।
জানা যায়, দেশটির বার্মিংহাম শহরের পার্কফিল্ড কমিউনিটি স্কুলের পাঠ্যসূচিতে স্কুলটির সহকারি প্রধান শিক্ষক অ্যান্ড্রিউ মোফাতের লেখা ‘আমাদের স্কুলে কোনও বহিরাগত নয়’ নামক একটি বই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষকদের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই বইটির কিছু অংশ শিক্ষার্থীদের পাঠ করানো হয়। বইটির এসব অংশে সমলিঙ্গের সম্পর্ক, সমকামিতা ও বিয়ের মত বিষয়গুলোকে গল্পাকারে তুলে ধরা হয়েছে।
শিক্ষকদের এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো স্কুলের এলজিবিটি সম্প্রদায়ের সমতা ও প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া। এর মাধ্যমে বর্ণ, জাতি ও ধর্মের সমতার উপর বিশেষ গুরুত্বপ্রদান নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
তবে, স্কুল কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বৃটিশ মুসলিম অভিভাবকেরা। পাঠ্যসূচিতে সমকামিতাবিষয়ক যে শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তা ধর্মীয় রীতিবিরোধী বলে দাবি করেছেন তারা। এছাড়াও ৪ থেকে ১২ বছরের শিশুদের এই ধরণের শিক্ষাপ্রদান তাদের বিপথে নিয়ে যেতে পারে বলেও অভিযোগ করেছেন এই সব অভিভাবকেরা।
মরিয়ম আহমেদ নামে একজন অভিভাবক এ বিষয়ে বলেন, "এই বয়সে শিশুদের এসব শেখানো একেবারে ভুল। তাদের নিজেকেই বুঝতে দিন তাদের যৌনগামিতা কী হবে।"
ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকজন অভিভাবক ঐ স্কুলে তাদের সন্তানদের ভর্তি বাতিল করে অন্য স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন। তেমনি এক অভিভাবক ফাতিমা শাহ বলেন, "এটা একেবারে অনুপোযুক্ত, পুরোপুরি ভুল। শিশুদের বলা হচ্ছে সমকামী হওয়া ভুল কিছু না। অথচ স্কুলটির ৯৮ শতাংশ শিক্ষার্থী মুসলিম। এটা একটি মুসলিম কমিউনিটি"।
তবে, স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্ত সঠিক বলেই মনে করছে। ঐ স্কুলে এই বিষয়টি প্রচলন করেছেন সেখানকার সহকারী প্রধান শিক্ষক অ্যান্ড্রিউ মোফাত। তিনি বলেন, "তোমার কালো বা বাদামি কিংবা সাদা চামড়া থাকতে পারে। তুমি হতে পারো খ্রিস্টান, হিন্দু, শিখ, ইহুদি, বিশ্বাসহীন অথবা সমকামী। আমরা সবাই একসঙ্গে বাস করতে পারি এবং করছি। আমি শিশুদের অল্পবয়স থেকেই এই বিষয়টি জানাতে চাই।"
তবে তার এইসব কথা মানতে নারাজ মুসলিম অভিভাবকরা। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতীয় বংশোদ্ভুত ৪০০ জনেরও বেশি অভিভাবক স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক অ্যান্ড্রিউ মোফাতের বিরুদ্ধে একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন।
প্রসঙ্গতঃ অ্যান্ড্রিউ মোফাত নিজেও একজন সমকামী এবং দীর্ঘদিন শিক্ষাক্ষেত্রে এ বিষয়ে কাজ করছেন। প্রাথমিক স্কুলে সমকামিতার প্রতিবন্ধকতা নিয়ে একটি বইও লিখেছেন তিনি। এছাড়াও এই শিক্ষক শিক্ষাক্ষেত্রে সমতা নিয়ে কাজ করার প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ রানির এমবিই সম্মাননা পেয়েছেন।