স্কটল্যান্ডে শিখ ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় গুরুদুয়ারায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামীকে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে এ ঘটনা ঘটে।
ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, একজন খালিস্তানপন্থি কর্মী অ্যালবার্ট ড্রাইভে অবস্থিত গ্লাসগোর গুরুদুয়ারায় প্রবেশে দোরাইস্বামীকে বাধা দিচ্ছেন।
যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত হাইকমিশনার দোরাইস্বামীকে শুক্রবার গুরুদুয়ারায় পরিদর্শনে আমন্ত্রণ জানায় স্কটিশ সরকার। তার আগেই সেখানে কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। তর্কে না জড়িয়ে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আগে দ্রুত ফিরে যান।
এ ঘটনায় যুক্তরাজ্যের কাছে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দিল্লি।
ভারতীয় হাইকমিশনার বিষয়টি যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে তুলে ধরেন।
এ মাসের শুরুর দিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো দেশটির পার্লামেন্টে বলেন, “জুন মাসে ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশে খালিস্তানপন্থী আন্দোলনের নেতা ও কানাডীয় নাগরিক হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যার সঙ্গে ভারতীয় সরকারের এজেন্টরা জড়িত ছিল বলে কানাডার হাতে প্রমাণ আছে।”
এর পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়।
ভারত এই অভিযোগকে “অযৌক্তিক” ও “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে অভিহিত করে নরেন্দ্র মোদির সরকার উল্টো কানাডাকে “সন্ত্রাসীদের স্বর্গরাজ্য” হিসেবে আখ্যায়িত করে। দুই দেশই এরপর পাল্টাপাল্টিভাবে কূটনীতিক বহিষ্কার করেছে। এরই মধ্যে শুক্রবার স্কটল্যান্ডের এ ঘটনা ঘটল।
দুই দেশের সম্পর্কের ক্রমাবনতির কারণে বন্ধ রয়েছে বাণিজ্যিক আলোচনা। কানাডার নাগরিকদের ভিসা দেওয়া বন্ধ রেখেছে ভারত। সে দেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের সতর্ক ও সজাগ থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
একই পরামর্শ দিয়েছে কানাডা সরকারও, ভারতে অবস্থানরত সে দেশের নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলেছে তারাও। মঙ্গলবার কানাডার বিভিন্ন শহরে শিখ অভিবাসীদের একাংশ ভারতবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেন।
শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে সাংবাদিকদের ব্লিঙ্কেন বলেন, “আমরা চাই এ ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত হোক। তদন্তকাজকে নিজের গতিতে চলতে দেওয়া ও ফল পাওয়াটা জরুরি। আমরা আশা করি, ভারতীয় বন্ধুরা এ তদন্তকাজে ভালোভাবে সহযোগিতা করবে।”
অপরদিকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, “কয়েক বছর ধরে কানাডায় সংঘটিত অপরাধের রমরমা দেখা যাচ্ছে। এসব অপরাধ বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি, সহিংসতা ও উগ্রপন্থার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। একে অন্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিশে রয়েছে।”
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি বলেন, “ভারতের অভিযোগ কানাডা কোনোভাবেই আমল দিচ্ছে না। অপরাধীদের প্রত্যর্পণেও তারা আগ্রহী নয়। বরং সে দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে ভারত–বিরোধিতাকে তারা গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে ন্যায্য অধিকার বলে অভিহিত করছে।”
শরণার্থী হিসেবে ভারত ছাড়ার কয়েক দশক পর এ বছরের জুলাইয়ে ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় নিহত হন নিজ্জার।
ভারত ২০২০ সালে নিজ্জারকে সন্ত্রাসী সন্দেহভাজন হিসাবে চিহ্নিত করেছিল। কানাডায় প্রায় ৮০০,০০০ শিখ সম্প্রদায় বাস করছে। তাদের অনেকেই খালিস্তান আন্দোলন নিয়ে কানাডায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। নিজ্জার সেখানে নেতৃত্বস্থানীয় পর্যায়ে ছিলেন।