ভোটের আগে বিচারের মুখোমুখি অরুন্ধতী রায়

তের বছর আগে কাশ্মির নিয়ে কথা বলেছিলেন বুকারবিজয়ী ভারতীয় সাহিত্যিক অরুন্ধতী রায় ও কাশ্মির বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ শওকত হোসেন। ২০১০ সালে তাদের বিরুদ্ধে “উসকানিমূলক” বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছিল। এবার ঘুমন্ত সেই মামলা জাগিয়ে তোলা হয়েছে। বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে অরুন্ধতীদের।

বুধবার (১১ অক্টোবর) ভারতীয় বাংলা সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সম্প্রতি মামলাটির আইনি প্রক্রিয়া চালানোর অনুমতি দিয়েছেন দিল্লির উপরাজ্যপাল ভি কে সাক্সেনা। জাতীয়তাবাদের ধোয়া তুলতেই ভারতের শাসক দল বিজেপি এই মামলা জাগিয়ে তুলেছে।

আনন্দবাজার বলছে, সামনে ভারতের পাঁচ রাজ্যে ভোট। তার আগে লাদাখ পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে বিজেপি। ফলে কাশ্মির ইস্যুকে সামনে আনতে ও জাতীয়তাবাদকে উসকে দিতে অরুন্ধতী রায় ও কাশ্মিরের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক শওকত হোসেনের পুরোনো মামলা খুঁচিয়ে তুললো শাসক শিবির।

২০১০ সালে সুশীল পণ্ডিত নামের এক নাগরিক অধিকারকর্মী এবং কাশ্মিরি পণ্ডিতদের সংগঠন “রুটস ইন কাশ্মির” দিল্লির ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে এ মামলা করে।

সেখানে অভিযোগ করা হয়, ওই বছর দিল্লিতে কমিটি ফর রিলিজ অব পলিটিক্যাল প্রিজনারস আয়োজিত “আজাদি: দ্য অনলি ওয়ে” নামে এক কনফারেন্সে কাশ্মিরকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করার দাবি তোলা হয়। সেখানে অরুন্ধতী রায় ও শেখ শওকত হোসেনসহ অন্য আসামিরা “উসকানিমূলক” বক্তব্য দেন। “কাশ্মির ভারতের অংশ নয়”- এমন মন্তব্য করেন অরুন্ধতী রায়।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাঈদ আবদুল রহমান গিলানি ও কাশ্মিরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা সাঈদ আলি শাহ গিলানিকেও এ মামলায় আসামি করা হয়েছিল। তারা দুজনেই মারা গেছেন।

দোষী সাব্যস্ত হলে এ মামলায় অরুন্ধতী রায়ের সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

নরেন্দ্র মোদি সরকারের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিতি রয়েছে অরুন্ধতী রায়ের। তিনি ভারত সরকারের কাশ্মির নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার। ১৯৯৭ সালে “দ্য গড অব স্মল থিংস” উপন্যাসের জন্য বুকার পুরস্কার পান অরুন্ধতী। প্রথম ভারতীয় নারী লেখক হিসেবে এ পুরস্কারে ভূষিত হয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান তিনি।