ভুটান-ভারতের মধ্যে সম্পর্ক বেশ গভীর এবং স্থায়ী। ইতিহাস, সংস্কৃতি আর আর্থ-সামাজিক বন্ধন এই সম্পর্ককে মজবুত পাটাতনের ওপর দাঁড় করিয়েছে। শতবর্ষের অখণ্ড সভ্যতার মূলে, এই সম্পর্ক একটি গভীর আধ্যাত্মিক আত্মীয়তার বন্ধনে সুরক্ষিত।
আস্থা, শুভেচ্ছা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার স্তম্ভ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এই সম্পর্ক ১৯৬৮ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে আরও শক্তিশালী হয়েছে। ভিয়েতনাম টাইমসের এক সম্পাদকীয় কলামে এমন মন্তব্য করা হয়েছে।
কলামে বলা হয়, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের একটি ভিত্তিস্তম্ভ হলো বৌদ্ধধর্ম। উভয়ের মধ্যে বৌদ্ধ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ কনফেডারেশনের (আইবিসি) মতো সম্মেলনে উভয় দেশের বৌদ্ধ নেতাদের একত্রিত হওয়ার সাথে সাথে সম্পর্ক আরও সুসংহত হচ্ছে।
সম্মেলনে লোপেন সাংয়ের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় একটি প্রতিনিধি দল ভুটানের প্রতিনিধিত্ব করে। লাদাখের পবিত্র স্থানগুলোতে প্রতিনিধিদলটি পরিদর্শনে যায়। ভারতের এই উদ্যোগ বৌদ্ধ ধর্মগুরুদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
কলামে বলা হয়, ভারত-ভুটানের মজবুত সম্পর্কের ভিত্তি ১৯৪৯ সালের ইন্দো-ভুটান মৈত্রী চুক্তি। ভুটানের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা সবসময়ই ভারতের জন্য একটি প্রধান অগ্রাধিকার। দুই দেশের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে, ভারত ভুটানকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করে। শুধুমাত্র ভুটানের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে নয় বরং পণ্য ও পরিষেবার বাণিজ্যের উৎস এবং বাজার হিসেবেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার।
স্থলবেষ্টিত ভুটানে ভারত শুধুমাত্র ট্রানজিট রুটই দেয় না, বরং জলবিদ্যুৎ, আধা-সমাপ্ত পণ্য, ফেরোসিলিকন এবং ডলোমাইট সহ ভুটানের অনেক রপ্তানির জন্য বৃহত্তম বাজার।
তারাহ গুয়েন ওই কলামে লিখেছেন, ভুটানে ১০ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ ক্ষমতার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারত। ৭২০ মেগাওয়াট মাংদেছু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সমাপ্তিকে দুই দেশের মধ্যে অংশীদারিত্বের একটি অর্জন বলে মনে করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভুটানের ১২তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১৮-২৩) অনুযায়ী, অর্থনৈতিক সংযোগগুলিকে শক্তিশালী করার জন্য ভারত সাড়ে চার হাজার কোটি রুপির অনুদানসহ ৪০০ কোটির ট্রানজিশনাল বাণিজ্যিক সহায়তাও দিয়েছে।
কলামে আরও বলা হয়, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে, ভারত-ভুটান স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, নয়াদিল্লির “ভ্যাকসিন মৈত্রী উদ্যোগে” কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সরবরাহে মূল্যবান সহায়তার জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভুটান ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি ভুটানের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্বও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে আসছে ভারতীয় সামরিক বাহিনী।
স্থিতিশীলতার দুর্গ হিসেবে, আঞ্চলিক ভারসাম্যকে এগিয়ে নিতে এবং দ্রুত বিকাশমান বিশ্বে শান্তি নিশ্চিত করতে ভারতের সঙ্গে ভুটানের স্থায়ী বন্ধুত্ব সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া গড়তে অন্যদের পথ দেখাবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ওই কলামিস্ট।