আবারও কমলো চীনের জনসংখ্যা

দ্বিতীয় বছরের মতো আবারও কমলো চীনের জনসংখ্যা। চীনের জনসংখ্যা কমেছে ২০ লাখেরও বেশি। জন্মহার কম হওয়া ও করোনাভাইরাসে মৃত্যুর কারণে জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কমছে দেশটিতে। জনসংখ্যার হিসেবে বিশ্বে প্রথম দেশ এখন ভারত।

বেজিংয়ের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, ২০২৩ সালের শেষে চীনের জনসংখ্যা ছিল ১৪০ কোটি ৯৬ লাখ ৭০ হাজার। যা আগের বছরের তুলনায় ২০ লাখ ৮ হাজার কম। ২০২৩ সালে জন্মহার ছিল প্রতি হাজারে ৬.৩৯। ২০২৩ সালে চীনে ৯০ লাখ ২০ হাজার শিশু জন্মগ্রহণ করেছে। এর আগের বছর এই সংখ্যাটি ছিল ৯৫ লাখ ৬০ হাজার। এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে জার্মানিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে।

১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশ চীনে বর্তমান জন্মহার রেকর্ড পরিমাণ কম। আর এ কারণে দিন দিন কমছে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, জন্মহার কমের বিষয়টি চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে কোণঠাসা করে দিতে পারে।

সর্বশেষ চীনের জনসংখ্যা কমেছিল ১৯৬০ সালে। ওই বছর মাও সে তুংয়ের বিপর্যয়কর কৃষি নীতি “গ্রেট লিপ ফরওয়ার্ডের” কারণে দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছিল দেশটির মানুষ।

তবে এরপর দেশটিতে জনসংখ্যা বাড়া শুরু করে। কিন্তু অধিক জনসংখ্যার ভয়ে ১৯৮০ সালে চীন বিতর্কিত “এক শিশু” নীতি গ্রহণ করে। যার কারণে জনসংখ্যা অনেক বেশি হ্রাস পায়। ভুল উপলব্ধি করতে পেরে ২০১৬ সালে এই নীতি পরিহার করে দেশটি। বর্তমানে অঞ্চলভেদে চীনে কোনো দম্পতি চাইলে তিন ছেলে-মেয়েও নিতে পারবেন। তবে এ বিষটি জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে খুব বেশি প্রভাব রাখতে পারেনি।

জীবনমানের খরচ বৃদ্ধি, বেশিরভাগ নারীর কর্মক্ষেত্রে যাওয়া এবং উচ্চশিক্ষার প্রতি ঝোঁক থাকার বিষয়গুলো জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি ধীর করে দিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া ইউনিভার্সিটি অব ভিক্টোরিয়ার প্রফেসর শিউজান পেং বলেছেন, “কয়েক দশক পুরোনো নীতির কারণে চীনের সাধারণ মানুষ ছোটো পরিবারের সঙ্গেই বেশি মানানসই হয়ে গেছেন। জন্মহার বৃদ্ধিতে চীনা সরকারকে কার্যকরী নীতি গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে জনসংখ্যা ক্রমশ কমতেই থাকবে।”

তবে চীন দাবি করেছে, তাদের অর্থনীতির বৃদ্ধি হয়েছে। গত বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর এই তিন মাসে জিডিপি বৃদ্ধির হার বেড়ে হয়েছে ৫.২%। করোনাভাইরাসের কড়াকড়ি তুলে নেওয়ার পর চীনের আর্থিক বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫%।