ডব্লিউএইচও: নয় হাজার রোগীকে জরুরি সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন

গাজা উপত্যকা থেকে অন্তত নয় হাজার রোগীকে জরুরি সরিয়ে নেওয়া দরকার বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সেখানে মাত্র দশটি হাসপাতাল এখনও কিছুটা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানায় সংস্থাটি।

ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম ঘেব্রেইসাস এক্স-এ লিখেছেন, ‘‘পুরো গাজা জুড়ে মাত্র দশটি হাসপাতাল ন্যূনতমভাবে কার্যকর। সেখানে হাজার হাজার রোগী স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, যুদ্ধের আগে গাজায় ৩৬টি হাসপাতাল ছিল।

তিনি বলেন, ‘‘ক্যান্সারের চিকিৎসা, বোমা হামলায় আহত হওয়া, কিডনি ডায়ালাইসিস ও অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী অবস্থাসহ জীবনরক্ষাকারী স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য প্রায় নয় হাজার রোগীকে জরুরীভাবে বিদেশে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।’’

মার্চের শুরুতে ডব্লিউএইচও-এর আগের মূল্যায়নে এই সংখ্যা ছিল আট হাজারের মতো থেকে বেশি।

এর আগে, ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলায় ১,১৩৯ জন ইসরায়েলি নিহত হন। ওই সময় বন্দি করা অনেকেই এখনও হামাসের হেফাজতে রয়েছে। ইসরায়েল বিশ্বাস করে গাজায় প্রায় ১৩০ জন জিম্মি রয়ে গেছে, যাদের মধ্যে ৩৪ জন মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওই হামলার পর থেকে থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৩২ হাজারের ফিলিস্তিনি নিহত ও ৭৪ হাজারের বেশি আহত হয়েছে। হতাহতদের বেশির ভাগই শিশু ও নারী।

২৩ লাখ ফিলিস্তিনিদের আবাসস্থল গাজা উপত্যকায় সম্পূর্ণ অবরোধ ঘোষণা করেছে ইসরায়েল। তারা হামাসকে নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা ভেঙে পড়েছে।

বিভিন্ন সংস্থা ও জাতিসংঘ বলছে, এই যুদ্ধের জেরে গাজার বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা সরবরাহে বাধা দেওয়া হচ্ছে। 

ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক বলেন, ‘‘এখন পর্যন্ত রাফাহ থেকে ৩,৪০০ জনেরও বেশি রোগীকে বিদেশে পাঠানো হয়েছে। যারমধ্যে ২,১৯৮ জন আহত ও ১,২১৫ জন অসুস্থ। আরও অনেককে সরিয়ে নেওয়া দরকার।’’

তিনি বলেন, ‘‘গুরুতর রোগীদের চিকিৎসার জন্য আমরা ইসরায়েল অনুরোধ করেছি। প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ।’’

যুদ্ধের আগে, প্রতিদিন ৫০-১০০ রোগীকে পূর্ব জেরুজালেম বা পশ্চিম তীরে স্থানান্তর করা হয়েছিল, তাদের অর্ধেক যান ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য।