দক্ষিণ-পশ্চিম পাকিস্তানে মাজারে যাওয়ার সময় একটি দুর্ঘটনায় অন্তত ১৭ জন নিহত ও ৪১ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বেলুচিস্তানের হাব জেলার ডেপুটি কমিশনার মুনির আহমেদ টোল।
এর আগে, স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে বেলুচিস্তান প্রদেশের হাব জেলায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ডেপুটি কমিশনার বলেন, ‘‘ট্রাকটি দ্রুতগতিতে ছুটছিল। মোড় ঘোরার সময় এটি চালকের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এতে সেটি ছিটকে পাহাড়ের পাদদেশে খাদে পড়ে যায়। তবে চালক ট্রাক থেকে লাফিয়ে পড়ে বেঁচে যান।’’
সিন্ধুর থাথা জেলার কয়েক ডজন লোক বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটা থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শাহ নূরানীর মাজারে যাচ্ছিলেন।
হাবের প্রধান হাসপাতালের ডেপুটি মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট শওকত জলবানিও ১৭ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘বেশিরভাগ আহতদের চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী করাচিতে পাঠানো হয়েছে।’’
হাব জেলায় অবস্থিত দুরেজির স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) আব্দুল ওয়াহেদ বালোচ বলেন, ‘‘মাজারের অনুসারীদের বহনকারী ট্রাক চালক অনভিজ্ঞ ও মাজারের দিকে যাওয়ার রাস্তা সম্পর্কে অপরিচিত ছিলেন। তিনি প্রথমবারের মতো বেলুচিস্তানে ভ্রমণ করেন এবং মাজারের দিকে যাওয়ার পথ এবং বাঁকগুলো সম্পর্কে ধারনা ছিল না।’’
হাব জেলার সিনিয়র পুলিশ সুপার মনজুর বুলেদি আরব নিউজকে বলেন, ‘‘চালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে।’’
জাম গোলাম কাদির হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট ডা. নাসির শেখ জানান, গুরুতর আহত ২০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর করাচির হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বেলুচিস্তান সরকার আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিন্ধু প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। মরদেহ নিজ নিজ গ্রামে স্থানান্তর করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে যারা এতে প্রাণ হারিয়েছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
সড়কে দুর্ঘটনায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা পাকিস্তানে প্রায়ই ঘটে থাকে। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বেলুচিস্তানে দাহ্য তেলবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছিল।