যে কারণে গরুর মাংস খাওয়া কমিয়েছেন আর্জেন্টাইনরা

আর্জেন্টিনার মানুষের খাবারের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ গরুর মাংস। তবে বিস্তীর্ণ গরুর খামার এবং আসাডো বারবিকিউর জন্য বিখ্যাত দেশটির নাগরিকরা আগের চেয়ে কম গরুর মাংস খাচ্ছেন।

ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক মন্দার কারণে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে গরুর মাংসের ব্যবহার অন্তত ১৬% কমে গেছে।

শনিবার (২২ জুন) এক প্রতিবেদন এ খবর জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরেই আর্জেন্টিনার অর্থনীতি টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এ বছর উদারপন্থি প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলির কঠোর ব্যবস্থার পর মূল্যস্ফীতি ৩০০% দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। দারিদ্র বেড়েছে। প্রধান শহরগুলোতে আরও বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে দেশটির নাগরিকদের খাদ্যাভাসে।

সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, এ বছর একজন আর্জেন্টাইন ৪৪ কেজি গরুর মাংস খেয়েছে, যা গতবছর ছিল ৫২ কেজি। ১৯৫০ সালে এর পরিমাণ ছিল ১০০ কেজির মতো।

দেশটির একটি কসাইয়ের দোকানে গরুর মাংস কেনার লাইনে দাঁড়িয়ে ৬৬ বছর বয়সী ক্লডিয়া সান মার্টিন রয়টার্সকে বলেন, “অর্থনৈতিক মন্দায় অনেক কিছু কাটছাঁট করলেও, এখনও এই মাংস বাদ দিতে পারিনি।”

৪৮ বছর বয়সী কৃষি প্রকৌশলী লুইস মার্চি বলেন, “ভোক্তারা গরুর মাংসের বদলে অন্যান্য সস্তা খাবার যেমন; মুরগী বা শূকরের মাংস এবং পাস্তার দিকে ঝুঁকছে।”

৫৩ বছর বয়সী চাষি গুইলারমো ট্রামন্টিনি বলেন, “গরুর মাংস খুব বেশি দামিও নয়। কিন্তু মানুষের ক্রয় ক্ষমতা ভয়ানকভাবে হ্রাস পেয়েছে।”

বুয়েনস আয়ার্সে ৪০ বছর ধরে নিজের কসাইখানা চালাচ্ছেন জেরার্ডো টমসিন নামের এক ব্যক্তি। তিনি রয়টার্সকে বলেন, “লোকেরা এখনও গরুর মাংস কিনতে আসছেন। কিন্তু তারা পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে।”

প্রতিবদেনে বলা হয়, দেশটিতে গরুর মাংসের স্থানীয় ব্যবহার কমে যাওয়ায় রপ্তানি বেড়েছে। এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার গরুর মাংসের শীর্ষ ক্রেতা চীন।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে মাংসের দাম অনেক কমে যাওয়ায়, রপ্তানি খাতটিও বর্তমানে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুক্তবাজার অর্থনীতিবিদ মাইলি।