এভারেস্টে পাওয়া শত বছর আগের পায়ের খণ্ডাংশটি নিয়ে যা জানা গেল

গত মাসে পর্বতারোহীদের একটি দল যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক্সের জন্য এভারেস্ট পর্বতমালায় প্রামাণ্য চলচ্চিত্রের দৃশ্য ধারণ করছিল। দৃশ্য ধারণের এক পর্যায়ে দলের এক সদস্য হঠাৎ জমাট বাঁধা একটি জুতায় হোঁচট খান। পরে দেখা যায় হিমবাহের বরফ গলে বেরিয়ে এসেছিল জুতাটি।

প্রাথমিক পর্যায়ে ধারণা করা হচ্ছে যে এ জুতা ব্রিটিশ পর্বতারোহী অ্যান্ড্রু কমিন “স্যান্ডি” আরভিন নামের এক ব্যক্তির। আজ থেকে একশো বছর আগে ১৯২৪ সালের জুনে এভারেস্টের চূড়ায় উঠতে গিয়ে সঙ্গী জর্জ ম্যালোরিসহ হারিয়ে যান তিনি। এর পর থেকে আরভিনের খবরের অপেক্ষায় ছিল তার পরিবার। জুতাটি বোধ হয় তাদের সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাল।

জুতাটি পাওয়ার পর থেকে এটি নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। গবেষকরা ধারণা করছেন জুতাটির সূত্র ধরে পাওয়া যেতে পারে পর্বতারোহণের বৈশ্বিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর একটির সমাধান। ১৯৫৩ সালে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের বুকে প্রথম পা রাখেন এডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নরগে। কিন্তু এর ২৯ বছর আগেই আরভিন ও ম্যালোরি এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিলেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরও পাওয়া যেতে পারে জুতাটির সূত্র ধরে।

১০০ বছর পুরনো পায়ের খণ্ডাংশটি

জুতাটি পাওয়ার পর এ আবিষ্কারে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের প্রামাণ্য চলচ্চিত্রনির্মাতা দলের নেতা জিমি চিন বলেন, “জুতাটির ভেতরে একটি পায়ের খণ্ডাংশ ছিল। এটি পাওয়ার সময় ছিল আমার জন্য স্মরণীয় ও আবেগঘন মুহূর্ত।”

জুতাটি পাওয়ার পর আরভিনের মেয়ে জুলি সামারসের যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেন, “আমরা তাকে (আরভিন) খুঁজে পাওয়ার সব আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম।”

খুঁজে পাওয়া জুতার ভেতরে থাকা পায়ের খণ্ডাংশটি সত্যিকার অর্থে আরভিনের কি না, তা নিশ্চিত হতে এরই মধ্যে তার পরিবার ডিএনএ নমুনা নেওয়া হয়েছে। তবে চলচ্চিত্রনির্মাতা দলটি অনেকটাই আত্মবিশ্বাসী যে জুতাটি আরভিনেরই। কারণ, জুতার ভেতরে যে মোজা পাওয়া গেছে তাতে সেলাই করে লেখা ছিল আরভিনের নাম।

চলচ্চিত্রনির্মাতা ওই দলটি গত মাসে এভারেস্টের উত্তর দিক দিয়ে রংবুক হিমবাহ থেকে নেমে আসার সময় জুতাটি খুঁজে পায়। এর আগে ওই পথে তারা একটি অক্সিজেনের বোতল পান। বোতলের গায়ে ১৯৩৩ সাল লেখা। ওই বছরই এভারেস্টে এক অভিযানকালে আরভিনের সঙ্গে থাকা একটি জিনিস পাওয়া গিয়েছিল।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের তথ্য মতে, পায়ের খণ্ডাংশসহ জুতাটি এভারেস্ট থেকে নিয়ে এসে চীনা পর্বতারোহী কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এভারেস্টের উত্তর দিক দেখভালের দায়িত্বে আছে ওই কর্তৃপক্ষ।

আরভিন ও ম্যালোরি ১৯২৪ সালে এভারেস্ট জয়ের প্রস্তুতি নেন। ওই সময় আরভিন ছিলেন সবচেয়ে কনিষ্ঠ পর্বতারোহী।

তবে ১৯৯৯ সালে এক মার্কিন পর্বাতোরাহী আরভিনের সহযোগী ম্যালোরির দেহাবশেষ খুঁজে পান। তবে ধারণা করা হচ্ছিল যে আরভিনের দেহাবশেষ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে জিমি চিনের পায়ের অবশিষ্টাংশ আবিষ্কারের পর এটি নতুন দিকে মোড় নিল।