ভারতে বাল্যবিয়ে বিরোধী অভিযানে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার ৫ হাজার

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বাল্যবিয়ে বিরোধী অভিযান চালানো হচ্ছে। সর্বশেষ পুলিশি অভিযানে ৪১৬ জন গ্রেপ্তারের পর এই অভিযানে মোট গ্রেপ্তার হওয়া মানুষের সংখ্যা ৫,০০০ পৌঁছেছে।

রবিবার (২২ ডিসেম্বর) আসাম রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এএফপি।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, শনিবার রাতভর পরিচালিত অভিযানে এই ৪১৬ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদেরকে রবিবার আদালতে হাজির করা হবে।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক স্বামী-স্ত্রীর বাবা ও মা এবং যারা তাদের বিয়ে নিবন্ধন করেছেন, তারাও রয়েছেন।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বাস শর্মা এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা সমাজের এই অশুভ প্রবণতার অবসান ঘটাতে বলিষ্ঠ উদ্যোগ অব্যাহত রাখব। আসামে অবৈধ বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সংগ্রাম অব্যাহত আছে।”

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এই অভিযান চলছে। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত শর্মা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ হিসেবে রাজ্যে ২০২৬ সালের মধ্যে বাল্যবিয়ে পুরোপুরি দূর করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

ভারতে বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ হলেও লাখো শিশুকে জোর করে কম বয়সে বিয়ে দেওয়ার নজির রয়েছে। বিশেষত, দরিদ্র ও পল্লী অঞ্চলগুলোতে। অনেক বাবা-মা পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের আশায় তাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের বিয়ে দেন।

বিষয়টি ভুক্তভোগীর জন্য বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মেয়েরা স্কুল ছেড়ে দিয়ে তাদের স্বামীর জন্য রান্না ও ঘরবাড়ি পরিষ্কারে নিযুক্ত হন। কম বয়সে সন্তান জন্ম দিয়ে নানা স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভোগেন তারা।

২০১৭ সালের এক ঐতিহাসিক রায়ে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর সঙ্গে সহবাসকে ধর্ষণের সমতুল্য বলে নির্ধারণ করে। অধিকারকর্মীরা এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন।