টানা ছয় দিন ধরে নিয়ন্ত্রণহীন দাবানলে পুড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা। দাবানলে প্রাণহানির সংখ্যা স্থানীয় সময় গতকাল রবিবার ২৪-এ পৌঁছেছে। হাজার হাজার ঘরবাড়ি, স্থাপনা ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি এই দুর্যোগের কারণে এক লাখ মানুষ এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
দাবানল আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, এখনও দাবানল কমার কোনো আশার আলো দেখা যাচ্ছে না; বরং বিপজ্জনক ঝোড়ো বাতাসের গতি বাড়ায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার লস অ্যাঞ্জেলেসে দাবানল শুরু হয়। ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউজম বলেছেন, “এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়ে উঠতে পারে। দাবানলে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৪ মানুষ মানুষ মারা গেছেন।”
আগুন ছড়িয়ে পড়া এলাকা পুরো ভস্মীভূত হয়ে গেছে। ধনী-গরীব সবার বাড়িই ধ্বংস হয়ে গেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ১২,৩০০ ঘরবাড়ি ও স্থাপনা আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে।
এদিকে দাবানলের পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে খারাপের দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা বলছেন, বাতাসের এমন গতি দাবানলের শিখাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে নতুন নতুন এলাকায় দাবানল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মৃতদেহের সন্ধানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর ব্যবহার করছে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির শেরিফ।
মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, গত এপ্রিল থেকে অনেক স্থানে বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে সান্তা অ্যানা আবারও স্থানীয় সময় রবিবার রাত থেকে বুধবার পর্যন্ত ৮০ থেকে ১১২ কিলোমিটার বেগে প্রবাহিত হতে পারে।