আগামী সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং একই দিনে টেকজায়ান্ট ইলন মাস্কও বাইবেলের ওপর হাত রেখে শপথ নিতে যাচ্ছেন। ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
আধুনিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি নজিরবিহীন যে ট্রাম্প এমন একজন ব্যক্তির ছায়ায় হোয়াইট হাউসে যাবেন যিনি কেবল বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিই নন, একইসঙ্গে ট্রাম্পের মতই তারও রয়েছে আগ্রাসী উচ্চাকাঙ্ক্ষা, কট্টর-ডানপন্থি রাজনীতি এবং মিডিয়ার প্রভাব।
জানা গেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইলন মাস্ক ‘‘ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি’’ অর্থাৎ সরকারি দক্ষতা বিভাগের বিষয়ে মনোনিবেশ করেছেন। এই বিভাগের দায়িত্বে থাকবেন মাস্ক।
এর আগে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্পকে নিজের পূর্ণ সমর্থন জানানোর পর থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় আর্থিকভাবেও অনেক সাহায্য করেছেন মাস্ক। ধারণা করা হচ্ছিল ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে ট্রাম্প প্রশাসনে কোনো দায়িত্ব পাবেন এই ধনকুবের। অবশেষে সেই কল্পনাটিই সত্য হয়।
মাস্ককে ফেডারেল ব্যয় এবং নিয়মকানুন কমানোর পরিকল্পনার দায়িত্বে নিযুক্ত করা হয়েছে।
উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাগুলো ডানপন্থী মতাদর্শীদের কাছে জনপ্রিয় কিন্তু ট্রাম্প শিবির ব্যাখ্যা করেনি যে এই ধরনের ব্যাপক পরিবর্তন কীভাবে স্বার্থের দ্বন্দ্ব এড়াবে, কারণ মাস্ক একজন প্রধান সরকারি ঠিকাদার।
গত ৫ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় বারের মতো বিজয়ী হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প শপথ নিবেন আগামী বছরে জানুয়ারির ২০ তারিখ।
জয়ী হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করছেন। ইতোমধ্যেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে ফক্স নিউজের হোস্ট পিট হেগসেথ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) জন্য ক্রিস্টি নোয়েমের নাম জানিয়েছেন তিনি। নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মার্কো রুবিওকে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির মতে, ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যাপকভাবে সক্রিয় ছিলেন শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। অনুদানও দিয়েছেন প্রায় ২০ কোটি ডলার। অবশ্য ট্রাম্প জেতার পরে মাস্কের সম্পদ বাড়ছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার। বিজয়ী ভাষণেও বিশেষভাবে মাস্কের কথা উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। আর তাই আগামী প্রশাসনে মাস্ককে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে দেখা যেতে পারে এমন আভাসও পাওয়া যাচ্ছিল।
বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ইলন মাস্ক গত বছরের শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে তার সমর্থন ঘোষণা করেন। অথচ ২০২২ সালে তিনি ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের পতনের ইঙ্গিত দিয়ে মন্তব্য করেছিলেন ‘‘ট্রাম্পের টুপি খুলে ঝুলিয়ে রাখা এবং সূর্যাস্তের দিকে যাত্রা করার সময় এসেছে।’’
ট্রাম্পের অন্যতম দৃশ্যমান এবং সুপরিচিত সমর্থক হিসেবে প্রকাশ্যে আসেন ইলন মাস্ক। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন করতে ‘‘আমেরিকা পিএসি’’ নামে একটা রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি গঠন করেছিলেন তিনি।
স্বভাবতই ইলন মাস্ক-ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যতিক্রমী সম্পর্ক ও ট্রাম্পের প্রতি মাস্কের অনুপ্রেরণার পেছনে মাস্কের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।
কেউ কেউ এই বলে উপহাস করছেন যে মাস্কের অনুপ্রেরণার পেছনে যে পাহাড় প্রমাণ স্বার্থের দ্বন্দ্ব, সেই প্রশ্নে ওভাল অফিস কি দুই ব্যক্তিত্বের জন্য যথেষ্ট বড় হবে?
মধ্যবর্তী নির্বাচনের হতাশাজনক ফলাফল সত্ত্বেও পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য আমেরিকানদের একটি কণ্ঠস্বর দেওয়ার এবং ‘‘জাতির কাঠামো পুনরুদ্ধার করার’’ প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রাম্পের শীর্ষ পদে তৃতীয়বার ঝুকে পড়াকে সমর্থন করার মাধ্যমে ট্রাম্প-মাস্কের মধ্যে এক রাজনৈতিক বন্ধন সৃষ্টি করে।
এছাড়াও বার্তা আদান-প্রদানের ওপর এই জুটির অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে। মাস্ক তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স প্ল্যাটফর্মকে ডানপন্থীদের জন্য একটি আশ্রয়স্থলে পরিণত করেছেন।
ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মার্গারেট ওমারা বলেন, ‘‘ট্রাম্পের মতো, মাস্কও এমন কিছু কথা এবং কাজের মাধ্যমে মনোযোগ আকর্ষণের মূল্য বোঝেন যা কিছু লোক আপত্তিকর বলে মনে করে। তিনি চ্যালেঞ্জিং নিয়ম পছন্দ করেন। ইলন মাস্ক ধনাঢ্য এবং সাহসী এবং তিনি ক্রমাগত ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে ট্রাম্প অত্যন্ত চমৎকার মানুষ। যা শুনতে ডোনাল্ড ট্রাম্পও খুব পছন্দ করেন।’’