ইয়েমেনে কারাগারে মার্কিন হামলায় ৬৮ অভিবাসী নিহত

ইয়েমেনে আফ্রিকান অভিবাসীদের বন্দি করে রাখা একটি কারাগারে মার্কিন বিমান হামলায় অন্তত ৬৮ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও ৪৭ জন।

সোমবার (২৮ এপ্রিল) দেশটির হুতি বিদ্রোহীরা এমন দাবি করেছে। তবে এমন কোনো হামলা চালানো হয়েছে বলে স্বীকার করেনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।

বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবর বলছে, হুতিদের অন্যতম ঘাঁটি বলে খ্যাত ইয়েমেনের সাদা অঞ্চলে এই হামলা হয়েছে। ইয়েমেন হয়ে কাজের সন্ধানে সৌদি আরবে যাওয়া চেষ্টা করা ইথিওপিয়াসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা এতে হতাহতের শিকার হয়েছেন।

এমন এক সময়ে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, যখন হুতিদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ইরানের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। বিদ্রোহীদের লক্ষ্য এই হামলা চালানোর পর ‘‘অপারোশন রাফ রাইডার’’ নামে চালানো মার্কিন অভিযান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলার সম্ভাবনা তৈরি হলো।

সোমবার (২৮ এপ্রিল) ভোরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের দেওয়া এক বিবৃতিতে কথিত ব্যাপক বিমান হামলায় মার্কিন বাহিনীর জড়িত থাকার নির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পেট হেগসেথের অনির্ভরযোগ্য সিগন্যাল মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে আক্রমণ সংক্রান্ত স্পর্শকাতর তথ্য প্রকাশ করায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে আমেরিকায়।

সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ‘‘কার্যকর অভিযানের নিরাপত্তার খাতিরে আমরা সচেতনভাবে আমাদের চলমান বা ভবিষ্যৎ অভিযানের তথ্য সামান্য প্রকাশ করেছি। আমাদের অভিযান নিয়ে আমরা খুবই সতর্ক, তবে আমরা কী করেছি বা করব- তা সুর্নিদির্ষ্টভাবে প্রকাশ করব না।’’

তবে ইয়েমেনের সাদায় হামলার বিষয়ে অ্যাসোসিয়েট প্রেসের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়নি মার্কিন বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড।

হুথিদের নিয়ন্ত্রিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার শিকার কারাগারটিতে ১১৫ জন অভিবাসী আটক ছিলেন।

বিদ্রোহীদের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, হামলায় কারগারে থাকা ৬৮ জন অভিবাসী নিহত ও ৪৭ জন আহত হয়েছেন।

কারাগারে হামলা চালিয়ে অভিবাসীদের হত্যার ঘটনাকে খুবই দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছে জাতিসংঘের সংস্থা আন্তর্জাতিক অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম)।

সংস্থাটি বলেছে, এই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি এড়াতে এবং তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার ও রক্ষা করার সকল প্রচেষ্টা করা অত্যন্ত জরুরি।’

এর আগে গত ১৮ এপ্রিল রাস ইসা জ্বালানি বন্দরে মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৭৪ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও ১৭১ জন ইয়েমেনি। এই হামলাটি মার্কিন হামলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল। তবে ১৮ এপ্রিল বন্দরে চালানো হামলার বিষয়ে আজকের বিবৃতিতে ব্যাখ্যা দিয়েছে সেন্ট্রাল কমান্ড।