ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের পঞ্চকুলার একটি আবাসিক এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা প্রাইভেট কার থেকে একই পরিবারের সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পঞ্চকুলার ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি) হিমাদ্রি কৌশিক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে অনুমান করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৭ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলা।
বার্তা সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গেছে, ওই পরিবার ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের শহর দেহরাদুনের বাসিন্দা। সোমবার ওই পরিবারের সদস্য প্রবীণ মিত্তল (৪০) একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে স্ত্রী-পুত্র ও তিন মেয়েকে নিয়ে হরিয়ানার বাগেশ্বরধামে গিয়েছিলেন। ফেরার সময় ঘটনাটি ঘটে বলে পুলিশের ধারণা।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাইভেট কারটি পঞ্চকুলার সেক্টর ২৭-এর বসতি এলাকায় বেশ কিছুক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা পুনীত রাণা ও তার ভাই বিষয়টি খেয়াল করেন, তবে প্রথমে কিছু বুঝতে পারেননি তারা। তখনও প্রাইভেট কারের ভেতর এক ব্যক্তি জীবিত ছিলেন। দুই ভাই তাকে গাড়িটি অন্যত্র সরিয়ে নিতে অনুরোধ করেন। এরপর গাড়ির ভেতরে থাকা ব্যক্তি সম্মতি জানিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যান। পুনীত রাণা ও তার ভাইয়ের সন্দেহ হওয়ায় তারা গাড়ির কাছে এগিয়ে যান। এ সময় তারা প্রাইভেট কারের ভেতরে কয়েকজনকে সন্দেহজনক অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
পুনীত রাণা বলেন, “আমরা ওই ব্যক্তিকে বাইরে বেরিয়ে আসতে বলি। উনি বলেন, ‘আমাদের অনেক ঋণ রয়েছে’। কথা বলতে বলেই পড়ে যান তিনি।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, জ্ঞান হারানোর আগে ওই ব্যক্তি জানিয়েছিলেন, ঋণের কারণেই তিনি ও তার পরিবারের সকলে এই পথ বেছে নিয়েছেন। পাশাপাশি দাবি করেন, তার হাতেও বেশিক্ষণ সময় নেই। এরপর দ্রুত পুলিশ এবং অ্যাম্বুলেন্সকে খবর দেন তারা।
পুনীত রাণা বলেছেন, “ঘটনাটি আমাদের বাড়ির সামনেই ঘটেছে। আমাদের গাড়ির পেছনে উত্তরাখণ্ডের নম্বরপ্লেট লাগানো একটি অচেনা গাড়ি দাঁড় করানো ছিল। আমরা গাড়িটিকে ওই জায়গা থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলাম। গাড়ির সামনে চালকের সিটে একজন ছিলেন। তাছাড়া বয়স্ক মহিলা এবং একটি শিশু ছিল। ওই ব্যক্তি বলেন, তারা এখানে সৎসঙ্গ শুনতে এসেছিলেন। কিন্তু হোটেল না পাওয়ায় রাতে গাড়িতেই রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন।”
পুনীত রাণা ওই ব্যক্তিকে জানান, কাছেই হোটেল রয়েছে। সেখানে তিনি তার পরিবারের সদ্যসদের নিয়ে রাত কাটাতে পারবেন। এতে ওই ব্যক্তি সম্মতও হন। কিন্তু পুনীত রাণা কিছু একটা অস্বাভাবিক বলে অনুমান করেন। তিনি আবার প্রাইভেট কারের কাছে যান। গাড়ির ভেতরে উঁকি দেন।
পুনীত রাণা বলেন, “আমরা যখন টর্চ জ্বালিয়ে গাড়ির ভিতরে তাকালাম, তখন দেখি গাড়ির ভেতরে সবাই পড়ে আছে। প্রত্যেকেই বমি করে ফেলেছিল। আমি বুঝতে পারি কিছু একটা গণ্ডগোল রয়েছে। ওই ব্যক্তিকে (যিনি জীবিত ছিলেন) আমি বেরিয়ে আসতে বলি। সেই সময় ওই ব্যক্তি নিজের ঋণের বিষয়ে বলেন এবং জানান ঋণে জর্জরিত হওয়ার কারণেই তারা এই পথ বেছে নিয়েছেন। কথা বলতে বলতেই পড়ে যান ওই ব্যক্তি।”
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাইভেট কারের মধ্যে থাকা ছয়জনকে একটি হাসপাতালে এবং সপ্তমজনকে অন্য একটিকে ভর্তি করা হয়। তবে সাতজনেরই মৃত্যু হয়েছে।
পঞ্চকুলার ডিসিপি হিমাদ্রি কৌশিক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের জানানো হয়েছিল যে, ছয়জনকে উদ্ধার করে ওজাস হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে পৌঁছাতে পৌছাতে তাদের মৃত্যু হয়। আরেক ব্যক্তিকে সেক্টর ছয়ের সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তাকেও মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।”
হিমাদ্রি কৌশিক বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। সমস্ত ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।”