বিক্ষোভের জেরে লস অ্যাঞ্জেলেসে কারফিউ জারি

লস অ্যাঞ্জেলেসে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলা অভিযান নিয়ে পাঁচ দিন ধরে ব্যাপক প্রতিবাদ বিক্ষোভ, সহিংসতা ও লুটপাটের মধ্যে নগরীর একটি অংশে কারফিউ জারি করেছেন মেয়র ক্যারেন ব্যাস। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ জুন) মেয়র ক্যারেন ব্যাস এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, শহরের ডাউনটাউন এলাকার এক বর্গমাইল অংশে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর থাকবে।

তবে কর্মস্থলে যাতায়াত, জরুরি চিকিৎসা সেবা গ্রহণ বা প্রদান এবং জরুরি সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা এই কারফিউয়ের আওতার বাইরে থাকবেন।

মেয়র ব্যাস বলেন, “গতরাতে ২৩টি দোকানে লুটপাট হয়েছে। শহরের বিভিন্ন ভবনে গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে, ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ব্যবসা ও সম্পত্তির। তাই আমি অনুরোধ করব, যারা ডাউনটাউনে থাকেন না বা কাজ করেন না, তারা যেন ওই এলাকায় না যান। কারফিউ ভাঙলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “ডাউনটাউন এলাকায় সহিংসতা ও ভাঙচুর গুরুতর হলেও পুরো শহরে পরিস্থিতি এমন নয়।”

মেয়র জানান, কারফিউ কয়েকদিন বলবৎ থাকতে পারে। তবে এটি শহরের ৫০২ বর্গমাইলের মধ্যে মাত্র এক বর্গমাইলে সীমিত থাকবে।

এদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এসব পদক্ষেপে আপত্তি জানিয়ে সেনা মোতায়েনকে অপ্রয়োজনীয়, অবৈধ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন।

এক ভাষণে তিনি আমেরিকানদের ট্রাম্পের মুখোমুখি দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “এই মুহূর্তে, এই মুহূর্তে, আমাদের সকলকে উঠে দাঁড়াতে হবে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি প্রেসিডেন্টের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “ট্রাম্প শহরের পরিস্থিতি আরও উসকে দিচ্ছেন।”

অপরদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকে শান্তি ও জনশৃঙ্খলার ওপর আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করে লস অ্যাঞ্জেলেসে আরও সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ক্যালিফোর্নিয়া সরকার বলছে, সেনা মোতায়েন নিয়ে তাদের আগাম কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযান ও সেনা মোতায়েনের প্রতিবাদে লস অ্যাঞ্জেলেসে পাঁচদিন ধরে বিক্ষোভ চলমান। একই সঙ্গে নিউইয়র্ক, শিকাগো ও আটলান্টাসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

এদিকে, লস অ্যাঞ্জেলেসে সেনা মোতায়েন আরও জোরদার করা হয়েছে। শনিবার দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় অভিবাসী ধরপাকড়ের পর বিক্ষোভ শুরু হলে ট্রাম্প ন্যাশনাল গার্ড মোতায়ের করেন। এরপর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিবিএস জানিয়েছে, বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় ক্যালিফোর্নিয়া ন্যাশনাল গার্ডের প্রায় ২,১০০ সদস্য এবং ৭০০ মেরিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রতিক্রিয়ার ট্রাম্পের এটি সর্বোচ্চ পদক্ষেপ।