চলতি বছরের নভেম্বর মাসে ৫১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। তবে এই বিসিএসে মোট কতজন প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হবে, তা এখনো নির্দিষ্ট হয়নি। পিএসসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পিএসসি সূত্র জানিয়েছে, নিয়মিত বিসিএস আয়োজনের ধারা বজায় রাখতে ইতোমধ্যে প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ক্যাডারভিত্তিক শূন্য পদের চাহিদা পিএসসিতে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র ও শূন্য পদের তালিকা পাওয়ার পর মোট পদসংখ্যা চূড়ান্ত করা হবে। পদসংখ্যা নির্ধারণ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিএসের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করবে কমিশন।
বিসিএসকেন্দ্রিক সেশনজট দূর করতে এক বছরের মধ্যে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরিক্রমা নিয়েছে পুনর্গঠিত পিএসসি। পিএসসি চেয়ারম্যান জানান, এক বছরে একটি বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের প্রক্রিয়া শেষ করাই এখন কমিশনের মূল মানদণ্ড। ৫০তম বিসিএসের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রেখে ৫১তম বিসিএসেও এই একই গতিশীল ধারা বজায় রাখা হবে।
বর্তমানে ৫০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা চলছে। এই বিসিএসের মাধ্যমে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদে মোট ২,১৫০ জন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ১,৭৫৫ ক্যাডার পদের বিপরীতে সবচেয়ে বেশি ৬৫০ জন নিয়োগ পাবেন স্বাস্থ্য ক্যাডারে। এ ছাড়া প্রশাসন ক্যাডারে ২০০ জন, পুলিশ ক্যাডারে ১১৭ জন এবং শিক্ষা ক্যাডারেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক জনবল নেওয়া হবে। ৫০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা শেষে আগামী নভেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে কমিশন।
বর্তমানে পিএসসির সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়া সত্ত্বেও ৪৫তম, ৪৬তম ও ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমছে না।
ক্যাডারপ্রত্যাশীদের মতে, পিএসসি এক বছরে বিসিএস শেষ করার নিয়ম চালু রাখলেও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের কাজে গতি আনতে হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলা ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় গতি না এলে দ্রুত চাকরিতে যোগ দেওয়ার আশা অপূর্ণ থেকে যাবে। তাই পিএসসির পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের কাজের গতি ও সমন্বয় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা।