দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ছুটির দিনে বেশি করে রান্না করা খাবার সংরক্ষণে বিপাকে পড়ছেন অনেক গৃহিণী ও কর্মজীবী মানুষ। ফ্রিজে বিদ্যুৎ না থাকায় কিংবা বাইরে খাবার রেখে খাওয়ার ক্ষেত্রে দেখা দিচ্ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্না করা খাবার স্বাভাবিক তাপমাত্রায় অনিরাপদ উপায়ে রাখলে তাতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া।
মার্কিন খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (ইউএসডিএ) গবেষণা অনুযায়ী, রান্না করা খাবার ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় কোনোভাবেই ২ ঘণ্টার বেশি রাখা উচিত নয়। তবে গ্রীষ্মকালে বা ঘরের তাপমাত্রা যদি ৩২° সেলসিয়াসের (৯০° ফারেনহাইট) বেশি হয়, তবে ১ ঘণ্টার মধ্যেই তা ফ্রিজে সংরক্ষণ করা কিংবা গ্রহণ করা আবশ্যক।
ইউএসডিএ-এর মতে, ৪.৪° সেলসিয়াস থেকে ৬০° সেলসিয়াস (৪০° থেকে ১৪০° ফারেনহাইট) তাপমাত্রাকে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির জন্য 'ডেঞ্জার জোন' বলা হয়। এই তাপমাত্রায় প্রতি ২০ মিনিটে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা দ্বিগুণ হতে থাকে। পুষ্টি, আর্দ্রতা ও অনুকুল পরিবেশ পেলে রান্না করা খাবারে জীবাণু দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা খেলে পেটের পীড়াসহ মারাত্মক ফুড পয়জনিং হতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর নিরাপত্তা নির্দেশনা: প্রতিবারে যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু রান্না করে দ্রুত খেয়ে ফেলা ভালো। প্রস্তুত করা খাবার হয় ৫° সেলসিয়াসের নিচে ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হবে, অথবা ৬৫° সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় গরম রাখতে হবে। কাঁচা ও রান্না করা খাবার সবসময় আলাদা পাত্রে রাখতে হবে, যাতে এক খাবার থেকে অন্য খাবারে জীবাণু ছড়াতে না পারে। রান্নার স্থান ও হাত সাবান দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং রান্নার কাজে বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।