রবিউল আউয়াল মাসে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ আমল বা ইবাদত নির্ধারিত নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামি বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার প্রকৃত বহিঃপ্রকাশ হলো সারা বছর তার সুন্নাহ অনুসরণ ও আদর্শকে জীবনে ধারণ করা।
সম্প্রতি এক ইসলামি প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে এক ব্যক্তি রবিউল আউয়াল মাসে কী কী আমল করা উচিত এবং ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এসব কথা বলেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, হিজরি বর্ষের তৃতীয় মাস রবিউল আউয়াল। ঐতিহাসিকদের মধ্যে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্মের সঠিক তারিখ নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে তার ওফাতের মাস হিসেবে রবিউল আউয়ালের বিষয়ে ঐতিহাসিক তথ্য তুলনামূলকভাবে সুসংরক্ষিত।
তিনি জানান, প্রাচীন সময়ে মানুষের জন্মতারিখ সংরক্ষণের প্রচলন বর্তমান সময়ের মতো ছিল না। এ কারণে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্মতারিখ নিয়ে বিভিন্ন মত পাওয়া যায়।
শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, রবিউল আউয়াল মাসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাত হয়ে থাকলেও এ মাসের জন্য আলাদাভাবে কোনো বিশেষ ইবাদত নির্ধারিত নেই। তার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের জন্য সারা বছর তার সুন্নাহ অনুসরণ, আদর্শ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা এবং তাকে ভালোবাসাই মূল বিষয়।
তিনি জানান, শুধু রবিউল আউয়াল মাসে মিলাদ বা অন্যান্য আয়োজন করে দায়িত্ব শেষ হয়েছে মনে করা ঠিক নয়। নবীজির প্রতি ভালোবাসা একটি নির্দিষ্ট মাস বা দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর তা চর্চা করা উচিত।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্মদিন সোমবার ছিল উল্লেখ করে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, তার জন্মকে কেন্দ্র করে সুন্নাহসম্মত কোনো আমল করতে চাইলে প্রতি সোমবার নফল রোজা রাখা যেতে পারে। কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) সোমবার রোজা রাখতেন এবং এ দিনের রোজার কারণ হিসেবে নিজের জন্মের দিনের কথা উল্লেখ করেছিলেন।
তিনি আরও জানান, রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবিদের যুগে প্রতিবছর নির্দিষ্ট দিনে জন্মবার্ষিকী পালনের প্রচলন ছিল না। তার মতে, পরবর্তী সময়ে অন্য সংস্কৃতির প্রভাবে মুসলিম সমাজে এ ধরনের আয়োজনের প্রচলন হয়েছে।
শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে সেই ভালোবাসার প্রকাশ সুন্নাহসম্মত পদ্ধতিতে হওয়া উচিত। তিনি এ বিষয়ে মতভেদ থাকা ব্যক্তিদের পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষ বা শত্রুতা না রেখে বিনয়ের সঙ্গে মত প্রকাশের আহ্বান জানান।
তিনি জানান, ভিন্নমত পোষণকারী কেউ ভুল করলেও তার প্রতি ক্ষোভ বা শত্রুতা না দেখিয়ে সহানুভূতি ও দয়ার মানসিকতা রাখা উচিত।