মাইগ্রেন নারী-পুরুষ উভয়েরই হতে পারে। তবে বয়ঃসন্ধির পর নারীদের মধ্যে এর প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, পুরুষদের তুলনায় প্রায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি মাইগ্রেনে আক্রান্ত হন। এর পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলোর একটি হলো হরমোনের ওঠানামা, বিশেষ করে ইস্ট্রোজেনের পরিবর্তন।
হরমোনের ওঠানামাই বড় কারণ
মাসিকের আগে শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা দ্রুত কমে যায়। যেসব নারী এই হরমোন পরিবর্তনের প্রতি সংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে এ সময় মাইগ্রেনের আক্রমণ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। মাসিকের সঙ্গে সম্পর্কিত মাইগ্রেন সাধারণত মাসিক শুরুর আগের কয়েক দিন থেকে শুরু হয়ে মাসিকের প্রথম কয়েক দিন পর্যন্ত দেখা দিতে পারে।
বয়ঃসন্ধির পর পার্থক্য স্পষ্ট হয়
শিশু বয়সে ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে মাইগ্রেনের হার মোটামুটি কাছাকাছি থাকে। কিন্তু বয়ঃসন্ধির পর মেয়েদের মধ্যে মাইগ্রেনের প্রবণতা বাড়তে শুরু করে। এ সময় থেকেই মাসিক চক্র ও হরমোনের পরিবর্তন মাইগ্রেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে পড়ে।
গর্ভাবস্থা ও মেনোপজেও পরিবর্তন ঘটে
গর্ভাবস্থায় অনেক নারীর মাইগ্রেনের সমস্যা কমে যেতে পারে, কারণ এ সময় ইস্ট্রোজেনের মাত্রা তুলনামূলক স্থিতিশীল ও বেশি থাকে। অন্যদিকে মেনোপজের আগের সময়, অর্থাৎ পেরিমেনোপজে, হরমোনের মাত্রা দ্রুত ওঠানামা করায় মাইগ্রেন সাময়িকভাবে আরও ঘন ঘন বা তীব্র হতে পারে। মেনোপজের পর অনেকের সমস্যা কমে আসে, যদিও সবার ক্ষেত্রে একই অভিজ্ঞতা হয় না।
শুধু হরমোনই দায়ী নয়
হরমোন গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিই একমাত্র কারণ নয়। বংশগত প্রবণতা, ঘুমের অনিয়ম, মানসিক চাপ, খাবার বাদ দেওয়া, পানিশূন্যতা, আবহাওয়ার পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয় মাইগ্রেনের আক্রমণকে উসকে দিতে পারে।
নারীদের মাইগ্রেন বেশি হওয়ার প্রধান ব্যাখ্যাগুলোর একটি হলো তাদের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে-বিশেষ করে মাসিক, গর্ভাবস্থা ও মেনোপজের সময়-ইস্ট্রোজেনসহ হরমোনের মাত্রায় বারবার পরিবর্তন। তবে ব্যক্তিভেদে মাইগ্রেনের কারণ ও ট্রিগার আলাদা হতে পারে।