বয়ঃসন্ধিতে বাচ্চাদের সুস্থ ও ক্ষতিকর বন্ধুত্বের পার্থক্য শেখাবেন যেভাবে

বয়ঃসন্ধিকালে কিশোর-কিশোরীরা ধীরে ধীরে পরিবার থেকে আলাদা একটি নিজস্ব সামাজিক জগৎ গড়ে তোলে। এই সময়ে বাবা-মায়ের নির্দেশনার চেয়ে সমবয়সী বন্ধুদের মতামত ও সান্নিধ্য তাদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে, যা সামাজিক বিকাশের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে এ সময়ে সন্তান কার সাথে মেলামেশা করছে তা নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে, তাকে সুস্থ ও ক্ষতিকর (অসুস্থ) বন্ধুত্বের পার্থক্য নিজেই চিনতে শেখানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মনস্তত্ত্ববিদ ও বিশেষজ্ঞরা।

আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (এপিএ) এবং আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস-এর তথ্য ও গবেষণা অনুযায়ী, কিশোর-কিশোরীরা নিজেদের পরিচয়, মূল্যবোধ ও আত্মবিশ্বাস গঠনে সমবয়সীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল থাকে। এ অবস্থায় সরাসরি নির্দেশ না দিয়ে সন্তানকে সঠিক বন্ধু বেছে নেওয়ার সক্ষমতা তৈরিতে অভিভাবকদের কিছু মৌলিক বিষয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালো বন্ধু মানেই সব বিষয়ে একমত হওয়া নয়। সুস্থ বন্ধুত্বের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক সম্মান, নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত সীমারেখাকে শ্রদ্ধাপ্রাপ্তি এবং বিপদে পাশে থাকা। ভালো বন্ধুত্বে নিজের মত প্রকাশের পাশাপাশি ভুল হলে তা শুধরে নেওয়ার সুযোগ থাকে।

কোনো বন্ধুকে সরাসরি ‘খারাপ’ বললে সন্তান অনেক সময় উল্টো তার পক্ষ নিতে পারে। ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট আইলিন কেনেডি-মুর অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়েছেন, সরাসরি নিষেধ না করে সন্তানকে প্রশ্ন করার মাধ্যমে পরিস্থিতি বোঝাতে সাহায্য করতে। যেমন: ওই বন্ধুর সাথে থাকলে সে কেমন অনুভব করে, অথবা তাকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া হয় কি না।

যেসব ক্ষেত্রে বন্ধুত্বের নামে চাপ প্রয়োগ করা হয় (যেমন: “এটা না করলে তুমি আমার বন্ধু নও” বা “বাড়িতে বলবে না”), সেগুলোকে ক্ষতিকর বন্ধুত্বের লাল সংকেত হিসেবে গণ্য করা উচিত। এ ছাড়া খোঁচা দিয়ে কথা বলা, চেহারা বা পোশাক নিয়ে অপমান করা, ভয় দেখানো কিংবা অনলাইনে ব্যক্তিগত ছবি বা পাসওয়ার্ড চাওয়ার মতো আচরণ সহ্য না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সন্তানদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ বা অতিরিক্ত নজরদারি না করে তাদের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
১. পার্থক্য না করা: ছেলে বা মেয়ে শিশু উভয়ের ক্ষেত্রেই বন্ধুত্বের নিরাপত্তার ও সম্মানের মানদণ্ড সমান হওয়া উচিত।
২. মনোযোগ দিয়ে শোনা: সন্তানের কথা শোনার সাথে সাথে নেতিবাচক মন্তব্য না করে বিচারহীনভাবে সম্পূর্ণ বিষয়টি শুনুন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা হলে সে খোলামেলা কথা বলতে পারে।
৩. বন্ধুদের জানা: সন্তানের বন্ধুদের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানিয়ে বা তাদের অভিভাবকদের সাথে পরিচিত হয়ে তাদের মেলামেশার পরিমণ্ডল সম্পর্কে ধারণা রাখুন।

অভিভাবকের মূল লক্ষ্য সন্তানকে শাসন করা নয়, বরং তাকে মানসিকভাবে এমনভাবে প্রস্তুত করা, যাতে বাবা-মা পাশে না থাকলেও সে জীবনের সঠিক ও স্বাস্থ্যকর সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়।