মাখানা নাকি পপকর্ন, ওজন ঝরাতে কোনটি খাবেন?

সিনেমা দেখতে বসে পপকর্ন খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। মুচমুচে এই খাবারটি শুধু বিনোদনের সঙ্গী নয়, হালকা নাশতা হিসেবেও বেশ জনপ্রিয়। অন্যদিকে, স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নিয়েছে মাখানা। পুষ্টিগুণের কারণে অনেকেই ভাজাপোড়ার বদলে এই খাবারটি বেছে নিচ্ছেন।

ওজন কমানোর চেষ্টা করলে পপকর্ন ও মাখানা - দুটিই হতে পারে নাশতার বিকল্প। তবে কোনটি বেশি উপকারী, তা নির্ভর করে খাবার দুটি কীভাবে তৈরি করা হচ্ছে এবং কতটা পরিমাণে খাওয়া হচ্ছে, তার ওপর।

মাখানার পুষ্টিগুণ কতটা?

পদ্মের বীজ থেকে তৈরি সাদা রঙের মাখানা হালকা ও মুচমুচে। এতে ফ্যাটের পরিমাণ তুলনামূলক কম। পাশাপাশি পাওয়া যায় কিছুটা প্রোটিন ও ফাইবার। এছাড়া মাখানায় রয়েছে আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান। 

মাখানার ফাইবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। এতে থাকা ম্যাগনেশিয়ামও শরীরের জন্য উপকারী। অ্যান্টি অক্সিড্যান্টসমৃদ্ধ এই খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। ফলে শুকনো খোলায় ভাজা বা অল্প ঘি দিয়ে তৈরি মাখানা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলক কম।

তবে মাখানা খেলেই ওজন কমবে, এমন নয়। ওজনের অনুপাতে এতে ক্যালরির পরিমাণ খুব কম নয়। তার ওপর ঘি দিয়ে ভাজলে কিংবা বাদাম মেশালে ক্যালরির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর খাবার ভেবে একবারে অনেকটা মাখানা খেয়ে ফেললে তা ওজন নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যকে ব্যাহত করতে পারে।

পপকর্ন কি ওজন কমাতে সাহায্য করে?

ভুট্টার দানা তাপে ফুলে তৈরি হয় পপকর্ন। এতে রয়েছে ফাইবার, যা পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফলে খাওয়ার পর দীর্ঘ সময় ক্ষুধা কম অনুভূত হতে পারে। এ কারণে পরিমিত পপকর্ন ওজন নিয়ন্ত্রণের খাদ্যতালিকায় জায়গা পেতে পারে।

তবে পপকর্নের উপকারিতা অনেকটাই নির্ভর করে এটি তৈরির পদ্ধতির ওপর। তেল বা অতিরিক্ত চর্বি ছাড়া তৈরি পপকর্নের সঙ্গে মাখন, চিনি কিংবা চিজ মেশালে ক্যালরির পরিমাণ বেড়ে যায়। নিয়মিত এ ধরনের পপকর্ন খেলে ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হতে পারে।

তাই পপকর্ন খেতে চাইলে অতিরিক্ত মাখন, চিনি ও চিজ এড়িয়ে চলা ভালো। পরিমাণের দিকেও নজর রাখা জরুরি।

ওজন কমাতে কোনটি বেছে নেবেন?

প্রতি ১০০ গ্রাম পপকর্ন ও মাখানার ক্যালরির মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। তবে পপকর্নের ফাইবার পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, মাখানা থেকেও ফাইবার, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান পাওয়া যায়।

ওজন কমানোর জন্য তাই দুটির মধ্যে একটিকে সবার জন্য সেরা বলা যায় না। তেল-ঘি ছাড়া বা খুব অল্প ব্যবহার করে তৈরি করে পরিমিত পরিমাণে খেলে দুটিই ভালো নাশতা হতে পারে।

মূল বিষয় হলো, খাবারটি কীভাবে তৈরি হচ্ছে এবং একবারে কতটা খাওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত ক্যালরি এড়িয়ে পরিমাণ মেপে খাওয়ার অভ্যাসই ওজন নিয়ন্ত্রণে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।