তথ্য কমিশন গঠনে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষদের প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান

তথ্য কমিশন গঠনে দলীয় রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, নিরপেক্ষতা ও সৎ সাহসের ওপর সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তথ্য অধিকার ফোরাম।  

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) তথ্য অধিকার ফোরাম এক বিবৃতিতে, প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনাররা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের দায়িত্ব পালনে সক্ষমতা যাচাইয়ের পাশাপাশি তাদের দক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতা এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। 

তথ্য কমিশনের প্রধান তথ্য কমিশনার ও দুইজন তথ্য কমিশনার নিয়োগের সুপারিশ করার লক্ষ্যে সম্প্রতি পুর্নগঠিত ৫ সদস্যের বাছাই কমিটির সভাপতি ও বংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এবং এ কমিটির সব সদস্যদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ আহ্বান জানানো হয়। 

বিবৃতিতে বলা হয়, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ধারা ১৪(১) অনুযায়ী গঠিত এ বাছাই কমিটি সম্প্রতি প্রধান তথ্য কমিশনার ও ২ জন তথ্য কমিশনার নিয়োগের লক্ষ্যে যোগ্য ও আগ্রহী প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করে। এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ফোরাম জানায়, এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন ও কার্যকর তথ্য কমিশন গঠনের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। 

বিবৃতিতে সংগঠনটি তুলে ধরে, তথ্য অধিকার আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন দক্ষ, নিরপেক্ষ ও গণমুখী তথ্য কমিশনের ওপর নির্ভর করবে। তথ্য অধিকার ফোরাম প্রত্যাশা করছে প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারগণ নিয়োগের ক্ষেত্রে তথ্য অধিকার আইন দ্বারা নির্ধারিত দায়িত্ব পালনে সক্ষমতা যাচাইয়ের পাশাপাশি দক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতার সাথে সব ধরনের প্রভাবমুক্ত থেকে কার্যকর ভূমিকা পালনে সক্ষম এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হবে। ফলে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ বিবেচনায় রেখে অবাধ তথ্য প্রবাহ ও জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিতের পথ সুগম হবে। 

তথ্য অধিকার আইনকে নাগরিকের বাক ও চিন্তার স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্র পরিচালনায় নাগরিকের অংশীদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি, দুর্নীতি হ্রাস এবং অন্যান্য মৌলিক অধিকারকে সুরক্ষা প্রদানের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে ফোরাম জানিয়েছে, আইনের কার্যকর প্রয়োগ নির্ভর করবে দক্ষ ও নিরপেক্ষ কমিশনের ওপর। 

তথ্য অধিকার ফোরামের মতে, দলীয় রাজনৈতিক বিবেচনা ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাবে কমিশন নিয়োগের কারণে আইনটি কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমান বাছাই কমিটি সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে এর অবসান ঘটাবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে। 

তথ্য অধিকার ফোরামের কোর গ্রুপের সদস্যরা হচ্ছেন- ড. বদিউল আলম মজুমদার, প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন); ড. ইফতেখারুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি); রেজাউল করিম চৌধুরী, নির্বাহী পরিচালক, কোস্ট ট্রাস্ট; সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ইন্সিটিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস্); এইচএম বজলুর রহমান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বিএনএনআরসি; জাকির হোসেন, প্রধান নির্বাহী, নাগরিক উদ্যোগ; ড. অনন্য রায়হান, চেয়ারপারসন, আইসোশ্যাল; ব্যারিস্টার সারা হোসেন, অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক, ব্লাস্ট; রফিকুল ইসলাম খোকন, নির্বাহী পরিচালক, রুপান্তর; হাসিবুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক, মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই); রুহী নাজ, উপ-পরিচালক, রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশ (রিইব); হামিদুল ইসলাম হিল্লোল, প্রকল্প ব্যবস্থাপক, টোবাকো ট্যাক্স প্রজেক্ট; ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে আহ্বায়ক শাহীন আনাম তথ্য অধিকার ফোরামের হয়ে এ আহ্বান জানিয়েছেন।