যে কারণে ভূমিকম্প টের পায় না কিছু মানুষ

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই দেখা যায় এক ধরনের মন্তব্য- “ভূমিকম্প হয়েছে জানতামই না”, কিংবা “ফেসবুকে এসে জানতে পারলাম ভূমিকম্প হয়েছে”। 

একই এলাকায় অবস্থান করেও কেন কেউ ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি অনুভব করেন, আবার কেউ করেন না- কেন এমন হয় কখনো ভেবে দেখেছেন? 

বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে বলছে, এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো ব্যক্তির সংবেদনশীলতা (সেনসিটিভিটি) এবং ভূমিকম্পের সময় ব্যক্তির অবস্থান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শাখাওয়াত হোসেনের বরাতে প্রতিবেদনটিতে বিবিসি আরো জানিয়েছে, একজন মানুষ ভবনের যত ওপরের দিকে থাকবেন, ভূমিকম্পের কম্পন অনুভব করার সম্ভাবনা তত বেশি। কারণ উচ্চতর তলায় দুলুনির মাত্রা তুলনামূলক বেশি অনুভূত হয়। অন্যদিকে নিচের তলায় থাকা ব্যক্তিরা অনেক সময় সেই কম্পন স্পষ্টভাবে টের পান না।

তবে শুধু অবস্থানই নয়, মানুষের শারীরিক ও মানসিক সংবেদনশীলতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিছু মানুষ স্বাভাবিকভাবেই নড়াচড়া বা গতির প্রতি বেশি সংবেদনশীল। ফলে তারা সামান্য কম্পনও সহজে অনুভব করতে পারেন। আবার অনেকের ক্ষেত্রে একই মাত্রার কম্পনও তেমনভাবে ধরা পড়ে না।

ভূমিকম্পের সময় ব্যক্তি কী করছিলেন, সেটিও একটি বড় বিষয়। কেউ যদি শান্তভাবে বসে কাজ করেন, বিশ্রামে থাকেন বা ঘুম থেকে সদ্য জেগে থাকেন, তাহলে কম্পন অনুভব করার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু কেউ যদি হাঁটাহাঁটি, রান্নাবান্না বা অন্য কোনো শারীরিক কাজে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি তার কাছে স্বাভাবিক নড়াচড়ার সঙ্গে মিশে যেতে পারে।

বাংলাদেশ এমনিতেই একটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল। কারণ দেশটি ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান এবং বার্মা টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি অবস্থিত। ফলে দেশের ভেতরে কিংবা শত শত কিলোমিটার দূরে উৎপত্তি হওয়া ভূমিকম্পের প্রভাবও বাংলাদেশে অনুভূত হতে পারে।

তাই ভূমিকম্পের সময় পাশের মানুষটি ঝাঁকুনি টের পেলেও আপনি না পেলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এটি অনেকটাই নির্ভর করে আপনি কোথায় ছিলেন, কী করছিলেন এবং আপনার শরীর কতটা সংবেদনশীলভাবে সেই কম্পন গ্রহণ করতে সক্ষম।