যুক্তরাজ্যের শীর্ষ ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের জোট রাসেল গ্রুপ ছাত্র ভিসা জালিয়াতি দমনের লক্ষ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সংগঠনটির মতে, কিছু জালিয়াতির ঘটনায় এমন বিধিনিষেধ আরোপ করা উচিত নয়, যা প্রকৃত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত করে।
যুক্তরাজ্য সরকার সম্প্রতি শিক্ষার্থী ভিসা স্পনসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য আরও কঠোর কমপ্লায়েন্স - ব্যবস্থা ঘোষণা করে। এর জবাবে রাসেল গ্রুপ একটি তিন দফা পরিকল্পনা প্রকাশ করে, যার উদ্দেশ্য ছাত্র ভিসাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা জোরদার করা, একই সঙ্গে যোগ্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার সুযোগ বজায় রাখা।
রাসেল গ্রুপ জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিপুল অংশই বৈধ আবেদনকারী। তারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, স্থানীয় সম্প্রদায় এবং যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
তিন দফা প্রস্তাব
রাসেল গ্রুপের মতে, মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া আবেদন পুরো অভিবাসনব্যবস্থার ওপর আস্থা নষ্ট করতে পারে। এ কারণে তারা তিনটি পদক্ষেপ প্রস্তাব করেছে -
১. বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে UK Visas and Immigration (UKVI)-এর জাল নথি, আঞ্চলিক প্রবণতা এবং রিক্রুটমেন্ট এজেন্টদের আচরণসংক্রান্ত ডেটায় সরাসরি প্রবেশাধিকার দেওয়া।
২. বর্তমান ১০ বছরের পুনঃপ্রবেশ নিষেধাজ্ঞার চেয়ে কঠোর শাস্তি বিবেচনা করা।
৩. বিশ্ববিদ্যালয় ও UKVI-এর মধ্যে সরাসরি জালিয়াতি প্রতিবেদন চ্যানেল চালু করা এবং সন্দেহভাজন আবেদনকারীদের তথ্য ভাগাভাগির স্পষ্ট নিয়ম নির্ধারণ করা।
রাসেল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক লিবি হ্যাকেট বলেন, “প্রতারণার মাধ্যমে ছাত্র ভিসা পাওয়ার চেষ্টা পুরো ব্যবস্থার ওপর আস্থা নষ্ট করে এবং প্রকৃত শিক্ষার্থীদের সুযোগও ঝুঁকির মুখে ফেলে। ছাত্র ভিসা পেতে প্রতারণা ও ভুয়া তথ্য ব্যবহার পুরো ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ন করে। এ ধরনের অপব্যবহার ঠেকাতে সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচেষ্টাকে আমরা সমর্থন করি।”
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পদক্ষেপসমূহ
রাসেল গ্রুপ জানিয়েছে, সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইতোমধ্যে নানা ধরনের যাচাই-বাছাই করছে। এর মধ্যে রয়েছে -
- CAS (Confirmation of Acceptance for Studies) ইস্যুর আগে অতিরিক্ত অনুমোদন ধাপ।
- আবেদন পর্যালোচনায় বাধ্যতামূলক দ্বিতীয় ব্যক্তির যাচাই।
- শিক্ষাগত যোগ্যতা সরাসরি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা।
- ইংরেজি ভাষা পরীক্ষার ফল টেস্ট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যাচাই।
- ব্যাংক ও তৃতীয় পক্ষের ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে আর্থিক নথি পরীক্ষা।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অভিবাসন নিয়ে যুক্তরাজ্যে চলমান বিতর্কের মধ্যেই রাসেল গ্রুপ এ অবস্থান নিয়েছে।