শুরু হয়েছে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার মৌসুম। প্রতিবছরই আয়কর রিটার্ন জমার সময় অনেক করদাতার রিটার্নে কিছু সাধারণ ভুল থেকে যায়, যার জন্য পরবর্তীতে কর নির্ধারণে সমস্যা, অপ্রয়োজনীয় জটিলতা দেখা দিতে পারে।
কোন ধরনের ভুল সাধারণত বেশি দেখা যায় আয়কর রিটার্নের ক্ষেত্রে, চলুন জেনে নেওয়া যাক
১. অনেক সময় সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা অন্য কোনো এলাকায় অবস্থিত ফ্ল্যাট, জমিসহ স্থাবর সম্পত্তি সঠিকভাবে উল্লেখ করা হয় না। এতে করদাতার সম্পদের চিত্র ওঠে আসে না।
২. প্রায়ই বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত পেতে বিনিয়োগের হিসাব ভুল দেখানো হয়। ফলে করের পরিমাণ কম বা বেশি হয়ে যায়।
৩. মাঝেমধ্যেই মোট আয়ের তুলনায় খরচ বেশি দেখানো হয়, যা আর্থিক তথ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। এতে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
৪. আয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ না হলে অস্বাভাবিক নগদ অর্থ দেখানো উচিত নয়, কিন্তু, হাতে নগদ অর্থ অস্বাভাবিক বা অতিরিক্ত পরিমাণে দেখায় অনেকেই।
৫. স্বর্ণালংকারের পরিমাণ ভুলভাবে দেখায় অনেকসময়। সম্পদ রাখার মতো আয় কি আপনার আছে, তাও ভাবতে হবে।
৬. উৎসে কর্তিত করের তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ দেওয়া, প্রকৃত পরিমাণের চেয়ে বেশি বা ভুল কর সমন্বয় দাবি করা।
৭. উপহার, অনুদান বা অন্যান্য বৈধ প্রাপ্তির তথ্য বাদ দেওয়া হয়। এতে সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন ওঠতে পারে।
৮. এফডিআর, ডিপিএস, সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য আর্থিক সঞ্চয় বা বিনিয়োগের তথ্য উল্লেখ না করা।
৯. সঞ্চয়, ঋণ দেওয়া বা ঋণ নেওয়ার তথ্য সম্পূর্ণভাবে উল্লেখ করা হয়। রিটার্নে ঋণের তথ্যও দিতে হবে। তা না হলে এই অর্থ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
১০. পূর্ববর্তী বছরের নিট সম্পদের তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপনা করা হয়।
আয়কর রিটার্ন দাখিলের আগে আয়, ব্যয়, সম্পদ, দায় ও কর পরিশোধসংক্রান্ত সব তথ্য ও প্রমাণপত্র ভালোভাবে মিলিয়ে নেওয়া উচিত। ভবিষ্যতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়ানোর জন্য এগুলোর বিষয় সতর্ক থাকতে হবে।