ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক দিক থেকে রাজধানী ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হচ্ছে লালবাগ কেল্লা। প্রায় সাড়ে তিনশো বছর আগে এর নির্মাণকাজ শুরু করেছিলেন মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র যুবরাজ মুহাম্মদ আযম।
ফোর্ট আওরঙ্গবাদ নামে এই দুর্গটির কাজ শুরু হলেও কেন শেষ পর্যন্ত এর নির্মাণ অসমাপ্তই থেকে গেলো তা নিয়ে জল্পনার শেষ নেই। ইতিহাসবিদদেরও এ নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই।
বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই কেল্লাটি নির্মাণ কাজ শেষ না করার পেছনে রয়েছে এক ধরনের কুসংস্কার।
আওরঙ্গজেবের শাসনামলে দুই দফায় বাংলার সুবেদার ছিলেন শায়েস্তা খান। তার শাসনের মাঝে ঢাকায় সুবাদার হিসেবে এসেছিলেন সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র যুবরাজ মুহাম্মদ আযম। তিনিই ঢাকায় লালবাগ কেল্লার নির্মাণকাজ শুরু করেছিলেন।
বছরখানেক কাজ করার পর তাকে সম্রাট ফিরিয়ে নিয়েছিলেন দরবারে। পরে দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব নিয়ে লালবাগকেল্লার কাজ শেষ করেননি শায়েস্তা খান। কেন কাজটি শেষ করলেন না তিনি, এখানেই রহস্য।
ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন এর পেছনে বিভিন্ন ইতিহাসবিদদের ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ঢাকায় সুবাদার হিসেবে এসে যুবরাজ আজম বিয়ে করেছিলেন শায়েস্তা খানের মেয়ে পরীবিবিকে।
পরীবিবির হঠাৎ মৃত্যুর কারণে এই দুর্গটি অশুভ মনে করতেন শায়েস্তা খান। তাই দ্বিতীয়বার সুবেদার হিসেবে এসে এটির নির্মাণ কাজকে আর এগিয়ে নেননি তিনি।
কোনো কোনো ইতিহিাসবিদরা অবশ্য বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করেছেন এইভাবে, প্রথম দফায় দায়িত্ব পালনের পর যখন সম্রাট আওরঙ্গজেবের ডাকে দিল্লি চলে যান শায়েস্তা খান, তখন মুহাম্মদ আযম ডেপুটি সুবাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে আসেন।
অর্থাৎ শায়েস্তা খানের অনুপস্থিতিতে তিনি বাংলার শাসনকাজ পরিচালনা করছিলেন"।
তার মতে, শায়েস্তা খানের অবর্তমানে যুবরাজ আযম এই কেল্লাটি নির্মাণ করেছিলেন, যেটিকে খুব একটা ভালোভাবে নেননি সুবাদার শায়েস্তা খান। যে কারণে তিনি পরবর্তীতে আর এটির নির্মাণকাজ এগিয়ে নেননি।