অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসা পেতে সতর্ক থাকতে হবে যেসব বিষয়ে

উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে অন্যতম পছন্দের গন্তব্য অস্ট্রেলিয়া। দেশটিতে বর্তমানে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছেন। অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নানা বিষয়ে পড়ার সুযোগ আছে, রয়েছে নানা ধরনের বৃত্তি।

তাই অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাওয়া সুযোগ বা চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানতে অনেকেই বেশ আগ্রহী। 

তথ্য বলছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১ লাখ ৭৯ হাজার আবেদনপত্রের মধ্যে ভিসা দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে। অর্থাৎ শিক্ষার্থী ভিসা মঞ্জুরের হার রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে দেশটিতে। তবে, ভিসার আবশ্যিক শর্ত পূরণ না করার কারণে অনেকেরই আবেদন বাতিল হয়ে যায়। তাই, আবেদন করার সময় বেশ কয়েকটি বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক সে সম্পর্কে-



আপনি দেশে ফিরে আসবেন তার প্রমাণ

শিক্ষার্থী ভিসার অন্যতম আবশ্যিক শর্ত হলো “জেনুইন টেম্পোরারি এন্ট্রান্ট (জিটিই)”। অর্থাৎ শিক্ষার্থী ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় এসে আপনি পড়ালেখাই চালিয়ে যাবেন এবং পড়া শেষে নিজ দেশে ফিরে যাবেন, এটা প্রমাণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ভিসা বাতিল হয়। এ জন্য ভিসার আবেদনপত্রের সঙ্গে অভিবাসন বিভাগ বরাবর আলাদা করে একটি “জিটিই' স্টেটমেন্ট লিখতে হবে।” স্টেটমেন্টে শিক্ষার্থীর সব পারিপার্শ্বিক অবস্থা বর্ণনা করতে হবে। আপনার পছন্দের বিষয়ে বাংলাদেশে পড়াশোনা না করে অস্ট্রেলিয়াকে বেছে নেওয়ার কারণ; যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হবেন, সেটা নির্বাচনের কারণ; পড়াশোনা করার পর বাংলাদেশে কীভাবে এই জ্ঞান কাজে লাগাবেন ও আপনার বাংলাদেশে ফিরে আসার সম্ভাবনা কেন অনেক বেশি (চাকরি বা পারিবারিক ব্যবসা) ইত্যাদি উল্লেখ করতে হবে।



বাংলাদেশে আপনার কে কে আছেন, আপনার নামে সম্পত্তি থাকা, বাংলাদেশের চাকরির বাজারে আপনার পড়াশোনার গ্রহণযোগ্যতা, পড়াশোনা শেষ করার পর বাংলাদেশে চাকরি পাবেন, এমন আগাম প্রস্তাবপত্র ইত্যাদি থাকাও গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের কাগজপত্র আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে।



আর্থিক সক্ষমতা

বিদেশে পড়াশোনা করতে গিয়ে খণ্ডকালীন কাজ করা খুবই সাধারণ বিষয়। অভিবাসন বিভাগ শিক্ষার্থীদের কাজের জন্য সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা সময়ও দেয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক শিক্ষাঙ্গন একটি বৃহৎ বাণিজ্যিক খাত। তাই অভিবাসন বিভাগ এমন কাউকে ভিসা দিতে চাইবে না, যিনি সে দেশেই কাজ করে নিজের পড়াশোনার খরচ চালানোর কথা ভাবছেন। এ দিকটা নিশ্চিত করতে আবেদন করার সময় আবেদনকারীর টিউশন ফি ও জীবনযাপনের খরচের জন্য তার যথেষ্ট অর্থ রয়েছে, তা দেখাতে হবে অথবা প্রতি মাসে তাকে এই অর্থের জোগান কেউ প্রদান করবেন, এমনটাও প্রমাণ করতে হবে।সাধারণ ক্ষেত্রে ১২ মাসের জন্য ৩০ লাখ টাকার বেশি অর্থের জোগান দেখাতে হবে একজন শিক্ষার্থীর জন্য, যা কোর্স অনুযায়ী কমবেশি হবে।



স্বাস্থ্যবিমা 

শিক্ষার্থী ভিসার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীকে তার কোর্সের সময়কাল পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিমা আগে কিনে এরপর শিক্ষার্থী ভিসায় আবেদন করতে হয়। স্বাস্থ্যবিমার টাকা প্রতি মাসে অথবা একবারে প্রদান করা যায়।



কোর্সে ভর্তি

অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসায় আবেদন করার আগে দেশটির কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো কোর্সে আপনাকে ভর্তির সুযোগ পেতে হবে। এরপর তারাই আপনাকে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি ভর্তির প্রমাণপত্র, যা Confirmation of Enrolment (CoE) নামে পরিচিত। এটি ছাড়া ভিসা আবেদন করা যাবে না, করা গেলেও আবেদনপত্র বাতিল হয়ে যাবে।



ইংরেজি দক্ষতা

অস্ট্রেলিয়া যেতে ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ অনিবার্য। খেয়াল রাখতে হবে ইংরেজি দক্ষতার স্কোর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ভিসার জন্য এক নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চাহিদা কোর্স ও প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হলেও ভিসা পেতে আপনাকে আইইএলটিএস–এ ৫.৫ বা পিটিই ৪২ বা সমমানের পেতে হবে।

সূত্র: প্রথম আলোতে প্রকাশিত অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী অভিবাসন আইনজীবী ও সাংবাদিক কাউসার খানের লেখা অবলম্বনে।