গবেষণা: রাতের বেশি তাপমাত্রায় ৬০% মানুষের মৃত্যু ঝুঁকি

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হিসেবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ক্রমবর্ধমানহারে বেড়ে চলেছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাবে বাস্তুসংস্থানে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিচ্ছে। সম্প্রতি একদল গবেষক দাবি করেছেন, রাতে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ বিশ্বব্যাপী মৃত্যুহার ৬০% পর্যন্ত বাড়িয়ে তুলবে।

বুধবার (১০ আগস্ট) ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল পাবলিক রেডিও (এনপিআর) এক প্রতিবেদনে জানায়, জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত মৃত্যুর ঝুঁকিতে রাতের উত্তাপ কতটা প্রভাব রাখে, তা নিয়ে এটিই প্রথম গবেষণা। 

রাতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ঘুমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে, যা মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। এটি কার্ডিওভাসকুলার রোগ, দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা, প্রদাহ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও নানান ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। নতুন এই গবেষণায় এমনটিই দাবি করেছেন গবেষকরা। 

২০৯০ সালের মধ্যে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের ২৮টি শহরে রাতের তাপমাত্রা গড়ে ৬৮.৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট থেকে দ্বিগুণ হয়ে ১০৩.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে গবেষণায়। 

চীনের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং গবেষণার অন্যতম লেখক ড. হাইডং কান বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাবে যেসব স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা মোকাবেলা করতে মানুষকে মানিয়ে নিতে হবে; আর আমাদের উচিত মানিয়ে নিতে বা এই অভিযোজন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে এমন কার্যকর উপায় তৈরি করা।” 

এক্ষেত্রে ড. কান মনে করেন, ভবিষ্যতে হিটওয়েভের সতর্কব্যবস্থা তৈরির সময় রাতের উত্তাপের বিষয়টি অবশ্যই বিশেষভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। বিশেষ করে, নিম্নআয়ের মানুষদের কথা বিবেচনায় রাখতে হবে, যাদের শীতাতাপ নিয়ন্ত্রণের অতিরিক্ত ব্যয় বহনের সক্ষমতা নেই।

তবে, গবেষকরা এশিয়া অঞ্চলের বাকি অংশ এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে এই গবেষণার ফলাফল আপাতত প্রয়োগ না করার পক্ষে মত দিয়েছেন। কারণ তারা এখনো এ সংক্রান্ত বিশ্বব্যাপী তথ্য বিশ্লেষণ করেননি।

চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, জার্মানি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন।