পৃথিবীর ছায়াপথ মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গা। এই মিল্কিওয়ে ছায়াপথ কতটা বিস্ময়কর তা জানতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন একদল বিজ্ঞানী।
কিন্তু আমাদের এই গ্যালাক্সি বা ছায়াপথের কেন “মিল্কিওয়ে” হলো, সেটি কি কখনো ভেবে দেখেছেন?
প্রাচীন গ্রিক শব্দ “গ্যালাক্সিয়াস” থেকে এই শব্দের উৎপত্তি বলে ধারণা করা হয়। “গালা” ও “গালাক্টোস” শব্দ থেকে এটি নেওয়া হয়েছে, যার অর্থ “মিল্ক” বা “মিল্কি”৷
প্রাচীনকালে আলোর দূষণ কম থাকায় রাতের বেলায় সব জায়গা থেকে আমাদের ছায়াপথ দেখা যেত। সেই সময় কোনো টেলিস্কোপ ছিল না। প্রাচীন গ্রিকরা একটি গল্পের মাধ্যমে এই “মিল্কি রোড” নামের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
হেরা নামের এক দেবী তার স্বামীর এক অবৈধ শিশুকে তার বুকের দুধ খাওয়া থেকে বিরত রাখলে সেই দুধ আকাশে ছড়িয়ে পড়েছিল বলেও মিথ রয়েছে৷
প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস আরেকটি ব্যাখ্যায় জানিয়েছিলেন, অনেকগুলো ক্ষুদ্র কণা দিয়ে বিশ্ব গঠিত। সে কারণে আকাশে যে আলো দেখা যাচ্ছে তার মধ্যেও অবশ্যই কণা আছে। এই আলোগুলোকে আজ আমরা তারা বলি।
ঐ সময়ের কয়েকশ বছর পর মানুষ মিল্কিওয়েতে আসলেই তারা দেখতে পেয়েছিল। ১৭ শতকের গোড়ার দিকে ডাচ চশমা প্রস্তুতকারক হান্স লিপারহে একটি অসাধারণ উদ্ভাবন করেছিলেন। তিনি দেখিয়েছিলেন, দুটো লেন্সের মধ্য দিয়ে দেখলে দূরের কোনোকিছুকে বড় আকারে দেখা যায়। তার এই উদ্ভাবনের কারণে পরবর্তীতে টেলিস্কোপ তৈরি সম্ভব হয়েছিল।
গ্যালিলিও গ্যালিলেই পরবর্তীতে টেলিস্কোপকে আরও উন্নত করেছিলেন। টেলিস্কোপ দিয়ে রাতের আকাশ তিনিই প্রথম পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। তিনি দেখতে পেয়েছিলেন, মিল্কিওয়েতে আসলেই অসংখ্য তারা আছে।
বিশ শতকের শুরু থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের আরও গভীরে দেখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। অতীতে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের উত্তরসূরিরা যে উজ্জ্বল বিন্দু দেখতে পেয়েছিলেন সেগুলো আসলে দূরের ছায়াপথ। প্রায় এক ট্রিলিয়ন তারার মধ্যে আমাদের বিশ্ব একটি, যেখানে মানুষ বাস করছে। কিন্তু এটাই একমাত্র, যার নাম মিল্কিওয়ে- প্রাচীন বিশ্ব থেকে আসা এক পৌরাণিক নাম।