বর্তমান প্রযু্ক্তিনির্ভর এই দুনিয়ায় ব্যক্তিজীবন থেকে বৈশ্বিক জীবনব্যবস্থা- দুটোই গোপনীয়তার ওপর টিকে আছে। আর এই গোপনীয়তা নির্ভর করে পাসওয়ার্ডের ওপর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অনেকটা অংশ জুড়ে রয়েছে। নিছক বিনোদন কিংবা জরুরি প্রয়োজন, যে কারণেই হোক না কেন ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মাঝে মাঝে পড়তে হয় হ্যাকিং কিংবা আই পাসওয়ার্ড চুরির কবলে। এছাড়াও চুরি যাওয়া পাসওয়ার্ডে ব্যাংক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইটও হাতিয়ে নেওয়া যায়। একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবন বিষিয়ে তুলতে পারে এই পাসওয়ার্ড।
২০১২ সালে ম্যাট বুকানন নামের এক অস্ট্রেলিয়ান লেখক পাসওয়ার্ডের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে ১ ফেব্রুয়ারিকে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন দিবস হিসেবে প্রচলন করেন।
ডিজিটাল শ্যাডোজ-এর তথ্য বলছে, ২০২২ সালে ২৪ বিলিয়ন পাসওয়ার্ড হ্যাকাররা হাতিয়ে নিয়েছে। তথ্যটা কিছুটা পুরোনো। তবে হালনাগাদ চিত্রটা ভাবুন। পাসওয়ার্ড চুরি যাওয়ার নানাবিধ কারণ রয়েছে। তবে প্রধান কারণ ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড-সংক্রান্ত অসচেতনতা ও অজ্ঞতা। এ নিয়ে বিটওয়ার্ডেনের পরিসংখান বলছে, মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মাত্র অর্ধেক মানুষ পাসওয়ার্ড সুরক্ষার ব্যাপারে সচেতন। অর্থাৎ দুনিয়াজুড়ে অর্ধেক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী পাসওয়ার্ডের গুরুত্ব সম্পর্কে অবগত নন। ৫৯% মানুষ সর্বত্র একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন। পুরোনো পাসওয়ার্ড ব্যবহারের প্রবণতাও অনেকের আছে। ফলে যা ঘটার তা-ই ঘটে। পাসওয়ার্ড সুরক্ষার অন্যতম প্রধান কৌশল হলো ঘন ঘন পাসওয়ার্ড বদলে ফেলা।
বেশিরভাগ মানুষই পাসওয়ার্ড হিসেবে জন্মতারিখ, প্রিয়জনের নাম, নিজের নাম, উল্টো সংখ্যা ব্যবহার করে থাকেন। আর এতেই হ্যাকাররা খুব সহজেই হাতেয়ে নিতে পারেন তাদের কাঙ্ক্ষিত সেই জিনিসটি। তাই দিবসটি পালন করুন বা না করুন, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন আজ।
সূত্র: ন্যাশনাল টুডে