শক্তিশালী সৌরঝড়ের আশঙ্কা, ঘটতে পারে বিদ্যুৎ-যোগাযোগ বিপর্যয়

সৌরঝড় শব্দের সঙ্গে আমরা অনেকেই হয়তো পরিচিত। গত বছরের ১১ অক্টোরবর পৃথিবীতে একটি শক্তিশালী সৌরঝর আঘাত হানতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছিল মার্কিন জাতীয় মহাসাগরীয় ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসন (এনওএএ)।

সূর্যের পৃষ্ঠ থেকে নির্গত শক্তিশালী বিকিরণ ও চার্জিত কণার বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই ঝড়ের সৃষ্টি হয়। এই ঝড়ের সময় স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, জিপিএস, রেডিও তরঙ্গ ও বিদ্যুতের নিয়মিত সরবরাহে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে। শিগগিরই বড় ও শক্তিশালী একটি সৌরঝড়ের (সুপারস্টর্ম) আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। এতে বিশ্বজুড়ে অ্যাপোক্যালিপস দেখা দিতে পারে। এটি যেকোনো সময় পৃথিবীর ওপর আঘাত হানতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। খবর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের।

প্রায় ১২৫০ বছর আগে সর্বশেষ বড় আকারের সৌরঝড় আঘাত হেনেছিল। সেই সৌরঝড়কে বলা হয়ে থাকে “মিয়াকি ইভেন্ট”। এবারও আঘাত হানতে যাওয়া সৌরঝড়টি অনেকটা মিয়াকি ইভেন্টের মতো হতে পারে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ম্যাথিউ ওয়েন্স। তিনি আরও জানান, “আরেকটি মিয়াকি ইভেন্ট পৃথিবীতে বিপর্যয় ঘটাতে পারে। আপনি যদি মহাকাশ পদার্থবিজ্ঞানী হন তবে, তা আপনার জন্য বেশ উত্তেজনাপূর্ণ। যদিও এমন ঘটনা বিদ্যুৎ সরবরাহকারীদের জন্য উদ্বেগের। যদি আবার মিয়াকির মতো কোনো ঘটনা ঘটে, তবে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা দেখা যাবে।”

বিজ্ঞানী ম্যাথিউ ওয়েন্স এ বিষয়ে আরও বলেন, ‘‘বড় আকারের কোনো সৌরঝড় আঘাত হানার ঘটনা আগে থেকে জানার সুযোগ বেশ কম থাকে। এমন কোনো ঘটনা ঘটলে আনুমানিক ১৮ ঘণ্টা আগে এর কিছুটা আন্দাজ করা যেতে পারে। সৌরঝড়ের কারণে স্যাটেলাইট বিকল হয়ে গেলে অনেক সংকট তৈরি হবে। বিমান চলাচলে বিভ্রাট দেখা যাবে।’’

সর্বশেষ ১৮৫৯ সালে পৃথিবীতে শক্তিশালী সৌরঝড় আঘাত হেনেছিল। “ক্যারিংটন ইভেন্ট” নামে পরিচিত সেই ঝড়ের সময় আকাশে বিস্ময়কর অরোরা দেখা গিয়েছিল। সে সময় সারাবিশ্বের টেলিগ্রাফ সিস্টেম বিকল হয়ে যায়। বর্তমানে হতে যাওয়া এই সৌরঝড়টি ক্যারিংটন ইভেন্টের চেয়েও ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী হতে পারে বলেও জানান তিনি।