অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে গণভোটসহ ১১টি অধ্যাদেশ বাতিল করার সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদ গঠিত বিশেষ কমিটির সরকার পক্ষের সংসদ সদস্যরা।
তবে এই কমিটির বিরোধীদলীয় তিনজন সদস্য এসব অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে তাদের নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে অধ্যাদেশ বহাল রাখার প্রস্তাব করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এই বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়।
প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশ উত্থাপিত আকারে সংসদে বিল উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া, ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংসদে বিল উত্থাপনের জন্য সুপারিশ করেছে। বাকি ২০টির মধ্যে ১৬টি অধ্যাদেশ সংসদে এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করে পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই করে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে এবং ৪টি অধ্যাদেশ রহিতকরণ ও হেফাজতের জন্য এখনই সংসদে বিল আনার সুপারিশ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসব অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে গঠিত জাতীয় সংসদ এসব অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে রিপোর্ট পেশ করার জন্য বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীনের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে, যেখানে বিরোধী দলের ৩ জন সংসদ সদস্য ছিলেন।
এই কমিটি তিনটি বৈঠক করে যাচাই-বাছাই করেছে। এক্ষেত্রে অধ্যাদেশগুলো কী প্রয়োজনে প্রণয়ন ও জারি করা হয়েছে তা জানার জন্য কমিটি অধ্যাদেশগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবদের মতামত নিয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে কমিটির সরকার দলের সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্য ১৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে একমত হতে পারেননি। ফলে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মজিবুর রহমান, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এবং গাজী নজরুল ইসলাম এই ১৩টি অধ্যাদেশে তাদের নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ, ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ সরকার পক্ষ বাতিল করার প্রস্তাব করেছে।
এসব অধ্যাদেশে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যগণ নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে অধ্যাদেশ বলবত রাখার কথা বলেছেন।
অন্যদিকে, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ ২০২৫ পাসের বিষয়ে সরকারপক্ষ ভিন্ন নীতি অনুসরণ করতে চায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিরোধীদলীয় তিনজন সংসদ সদস্য এই নীতি অপরিবর্তিত অবস্থায় পাস করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সরকারপক্ষ জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ পাস করার প্রস্তাব করেছে।