সেপ্টেম্বরে ছাত্রদলের কমিটি, আলোচনায় যারা

নির্ধারিত দুই বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতৃত্বে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিতদের সমন্বয়ে যেকোনো মুহূর্তে ঘোষণা হতে পারে সংগঠনটির নতুন কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটি। একই সঙ্গে ছাত্রদলের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখারও কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।

সূত্রের খবর, আগামী সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে ঘোষণা করা হতে পারে ছাত্রদলের নতুন কমিটি। ইতিমধ্যে দলটির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম ও সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানের টেবিলে সম্ভাব্য যোগ্য প্রার্থীদের একটি খসড়া তালিকা জমা পড়েছে।

এদিকে কমিটিতে স্থান পেতে শীর্ষ পদের দাবিদাররা শেষ মুহূর্তের লবিং ও রাজনৈতিক তৎপরতায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামের ভূমিকা ও জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মাঠের ভূমিকা এবং পরিচ্ছন্ন ইমেজকেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের মূল মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১ মার্চ ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি ও নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭ সদস্যের একটি আংশিক কমিটি দেওয়া হয়। এর সাড়ে তিন মাস পর ১৫ জুন ৩৯ জন সহ-সভাপতি ও ১১১ জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ২৬০ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয় সংগঠনটি।

এই কমিটির অধীনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, দেশের বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা, মহানগর এবং মেডিকেল কলেজসহ শত শত গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ইউনিটের নতুন কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।

তবে ২০২৬ সালের ১ মার্চ এই কেন্দ্রীয় কমিটির নির্ধারিত দুই বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় রাজপথের গতিশীলতা ধরে রাখতে এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মোকাবিলায় হাইকমান্ড এখন দ্রুত নতুন নেতৃত্ব আনতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন।

জানতে চাওয়া হলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। বিষয়টি দলের নীতিনির্ধারকরা দেখছেন।“

তিনি বলেন,” আমরা বিশ্বাস করি, যারা আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত, সাংগঠনিকভাবে দক্ষ এবং শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য, তাদের সমন্বয়েই নতুন নেতৃত্ব গঠিত হবে। বর্তমান কমিটিও নতুন নেতৃত্বের কাছে একটি শক্তিশালী ও গতিশীল সংগঠন হস্তান্তরের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।"

কেন্দ্রীয় কমিটিতে আলোচনায় যারা

ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে এক ডজনের বেশি নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন- কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান; সহ-সভাপতি মনজুরুল আলম রিয়াদ, ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল, রাজু আহমেদ, মমিনুল ইসলাম জিসান, কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত; সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন; সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক।

এছাড়াও শীর্ষ পদে আলোচনায় রয়েছে, আনোয়ার পারভেজ, মো. খোরশেদ আলম সোহেল, এইচ এম আবু জাফর, ইজাজুল কবির রুয়েল, মোস্তাফিজুর রহমান, শরীফ প্রধান শুভ, মাহমুদ ইসলাম কাজল, আজিজুল হক জিয়নসহ আরও অনেকে।

যা বলছেন পদপ্রত্যাশীরা

সহ-সভাপতি মনজুরুল আলম রিয়াদ বলেন, "দীর্ঘদিন সংগঠনের সঙ্গে রাজপথে কাজ করেছি। নেতৃত্বের সুযোগ পেলে সাংগঠনিক ঐক্য জোরদার এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কাজ করাই হবে আমার অগ্রাধিকার।"

যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল বলেন, "নেতৃত্ব পাওয়া না পাওয়ার চেয়ে সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে দায়িত্ব পেলে ছাত্রদলকে শিক্ষা, গবেষণা ও শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যাকেন্দ্রিক একটি আধুনিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।"

সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স বলেন, "ছাত্রদলকে ক্যাম্পাসগুলোতে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক-সৃজনশীল ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দেশ গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে চাই। সংগঠন যে দায়িত্ব দেবে, তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে ছাত্রদলকে এপ্রজন্মের আপন সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য ।"

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ বলেন, "তৃণমূলের কর্মীদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক ও শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।"