সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিতর্কিত ইস্যুতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক প্রভাব ও জনপ্রিয়তায় চরম ধস নামছে বলে মন্তব্য করেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শাহেদ আলম। তিনি দাবি করেছেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনে দলটি তাদের ইতিহাসের সেরা ফল পেলেও, তাদের তথাকথিত 'উন্নয়ন ও ভালো মানুষের' মুখোশ উন্মোচিত হওয়ায় আগামী নির্বাচনে তাদের আসন সংখ্যা মারাত্মকভাবে কমে যাবে।
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘বাংলাভিশন’-এর একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘‘যারা জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিয়েছিল তারাও অনেকে আফসোস করছেন এখন, যে আমার ভোটটা নষ্ট করেছি। আমরা কোনোদিন দেখিনি যে সরকার গঠনের পরে বিরোধী দলের জনপ্রিয়তা কমে আর সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়ে। কিন্তু আমরা এটাই দেখছি যে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের ভাষায়- বিরোধী দলের পতন দেখছি একের পর এক ঘটনায়।’’
সাংবাদিক শাহেদ আলম বলেন, ‘‘৫ আগস্টের পর দেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়েছিল, যেখানে ধর্মের নামে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র তৈরি হবে, নাকি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অনেকেই ধর্মের নামে রাজনীতির দিকে ঝুঁকে গেলেও আমি একা মধ্যমপন্থা, লিবারেল ডেমোক্রেসি, নারী স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের পক্ষে লড়াই চালিয়ে গেছি।’’
জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বর্তমান রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘‘এনসিপি ও জামায়াতের যে রাজনীতির আসল রূপ, তা এত দ্রুত উন্মোচিত হবে তা ধারণার বাইরে ছিল। ধর্মীয় রাজনীতির লেবাস পরলেও তাদের সংসদ সদস্যদের পারফরম্যান্স হতাশাজনক এবং ব্যক্তিজীবনের নৈতিকতা সাধারণ মানুষের চেয়েও প্রশ্নবিদ্ধ। যশোরে একজন সংসদ সদস্যের বাড়িতে জনগণের ক্ষোভ প্রকাশই তাদের পতনের স্পষ্ট ইঙ্গিত।’’
তিনি পূর্বাভাস দিয়ে বলেন, ‘‘এবারের নির্বাচনে জামায়াত তাদের ইতিহাসের সেরা ফলাফল করলেও আগামী নির্বাচনে তাদের আসন ২০ থেকে ২৫-এ নেমে আসবে। প্রশাসনিক ক্ষমতা, সরকার ও সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখা সত্ত্বেও জনগণ তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে তাদের অস্তিত্ব আরও সংকটে পড়বে।’’