রাজধানীতে নিরাপত্তা বাড়াতে প্রথম সারির রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজের সদস্য ও যেসব মসজিদে সহিংসতা উসকে দেওয়া হয় তার তালিকা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন, অপরাধীরা যাতে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে সে জন্য এই তালিকা করা হয়েছে।
অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) একেএম হাফিজ আখতার ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “এই তালিকা নতুন কিছু নয়, আগেও করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো নতুনভাবে কমিটি দিচ্ছে। অনেক রাজনৈতিক দল গঠন হচ্ছে, অনেকে নাম পাল্টিয়ে সক্রিয় হচ্ছেন- এসব তথ্য আপডেট করা হচ্ছে।
শুধুমাত্র বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্যদের তালিকা করা হচ্ছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দল মানে সব রাজনৈতিক দল। সুশীল সমাজের সদস্যদের মতো অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন। তালিকার উদ্দেশ্য কাউকে হয়রানি করা নয়, পুলিশের কাজের জন্য এই তথ্য দরকার।”
ডিএমপি সূত্র জানায়, তালিকার জন্য রাজনৈতিক দলের কমিটির সদস্যদের নাম, পদমর্যাদা, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর রেকর্ড করা হচ্ছে। এছাড়া যেসব মসজিদ থেকে উসকানিমূলক বা সহিংস মিছিল বের করা হয়েছিল তাদের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিরোধী রাজনৈতিক দলের কয়েকজন সদস্যের দাবি, তাদের কর্মী-নেতাদের দমন করতেই এই তালিকা করা হচ্ছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “সরকার যদি এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ না করে, তাহলে যে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন শুরু হয়েছে তার বিস্ফোরণ ঘটবে।”
বিএনপি নেতা ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, “আমাদের নেতাকর্মীদের তালিকা তৈরি করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে নেতাকর্মীরা ভয়ে পালিয়ে যায়, আন্দোলনে অংশ নিতে ভয় পায়। তারা জানে কর্মীদের পরাজিত করার জন্য মামলা কার্যকর হাতিয়ার। নেতারা জেলে থাকলে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেবে কে? বিএনপি কর্মীরা ভয় পায় না এবং রাজপথে থাকবে।”
গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বসবাসরত আমাদের নেতা-কর্মীদের তালিকা করা হয়েছে। অনেকে রিপোর্ট করেছেন যে পুলিশ তাদের এলাকায় তালিকা তৈরি করছে এবং তাদের বিবরণ নিচ্ছে। এই তালিকাটি ভিন্নমত পোষণকারী রাজনৈতিক দলগুলোকে দমন করতে ব্যবহার করা হবে।”
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট নাগরিক সমাজের সদস্য ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “পুলিশ এখনো আমার কাছে আসেনি, তবে এটা সরকারের ভুল পদক্ষেপ। তারা তালিকা তৈরি করে সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। শুধু রাজনীতিবিদরাই নয়, সম্মানিত ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ মানুষও ভীত হয়ে পড়বে।”
অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক গোলাম মসিহ বলেছেন, “যতদিন এই তালিকা নিয়ে কোনো সমস্যা না হয়, ততদিন এটি অবশ্যই ভালো বিষয়। প্রতিটি থানায় ইতিমধ্যেই এমন তালিকা রয়েছে। পুলিশ সঠিকভাবে যাচাই করলে কোনো সমস্যা দেখছি না।”
তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত কেউ এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তারা বলছেন, এটি পুলিশের ব্যাপার।