জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির ড. শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘ভবিষ্যতে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন সংস্কার চলছে। আমি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বলতে চাই, আপনাদের সংস্কারকাজে গতি বাড়াতে হবে। আপনারা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেবেন- এটি পুরো জাতির প্রত্যাশা। তাহলেই আপনারা জাতির কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। আমরা আপনাদের চাপ দিচ্ছি না। কিন্তু সংস্কারের নামে যেন কালক্ষেপণ না হয়, সেদিকেও আপনাদের লক্ষ রাখতে হবে।”
শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে কুমিল্লা নগরীর টাউন হল মাঠে মহানগরী জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন মহানগরী জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।
তিনি বলেন, “প্রশাসনের সর্বস্তরে সংস্কারের জন্য আমরা সরকারকে সময় দিয়েছি। প্রয়োজনে আরও দেব। তবে মৌলিক সংস্কার করে যৌক্তিক সময়ে নির্বাচন দিতে হবে। ২০২৪ সালের জুলাই গণহত্যার বিচার করতে হবে। তবে আমরা আইন হাতে তুলে নিতে চাই না। পরাজিত শক্তি এখনও বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।”
তিনি আরও বলেন, “ভারতীয় মিডিয়ায় মিথ্যাচার চালিয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে করতে চেয়েছিল। কিন্ত এদেশের মানুষ তাদের সে পাতা ফাঁদে পা দেয়নি। দেশের প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে সে ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছে।”
তিনি মন্তব্য করে বলেন, ‘‘আমরা কাউকে ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করতে চাই না। সবার পরিচয় হবে আমরা বাংলাদেশি। নামের কারণে বিভাগ না দিয়ে একটি জেলার মানুষের প্রতি জুলুম করা হয়েছে। দেশের এক ইঞ্চি মাটির প্রতি অবজ্ঞাকারী কোনো ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা নেই।” তিনি কুমিল্লা নামে বিভাগ বাস্তবায়নের দাবি জানান। এছাড়াও কুমিল্লা বিমানবন্দর সচলের যৌক্তিকতাও তুলে ধরেন তিনি।
জামায়াতে আমির বলেন, “গত সাড়ে ষোল বছর আদালত আঙ্গিনা ছিল বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের দখলে। মূলত পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের অস্তিত্ব ধ্বংস করার মিশন শুরু হয়। এরপর ধাপে ধাপে মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়। বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার ছিল না। বিশেষ করে জামায়াতের ওপর সবচেয়ে বেশি অবিচার করা হয়। আমাদের শীর্ষ নেতাদের একে একে মিথ্যা মামলায় ফাঁসি দেওয়া হয়। অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাদের কারাগারের রেখে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। আমাদের কার্যালয়গুলো অন্যায়ভাবে বন্ধ রাখা হয়। তবে এতো নির্যাতনের পরও আল্লাহর রহমত ও নেতাকর্মীদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা টিকে আছি।
শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন. “বিদেশে বসে ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ নেই। দেশের প্রশ্নে জাতি এখন ঐক্যবদ্ধ।”
তিনি শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর দাবি জানান। বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়নের দাবি জানান। বৈষম্যবিরোধী বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে নিজস্ব অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে নারীরা যথাযথ মর্যাদা ও নিরাপত্তা পাবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। যোগ্যতার ভিত্তিতে সবাইকে মূল্যায়ন করা হবে।
তিনি অভিযোগ করেন. “বিগত দিনে পুলিশের পক্ষ থেকে সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তারপরও আমরা প্রতিশোধপরায়ন হইনি। আমরা সবাই মিলে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।”