নিবন্ধন পেতে সংসারবন্দি পার্টি-শান্তির দল-জনপ্রিয় পার্টির ইসিতে আবেদন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য আবেদনের সময় ২২ জুন পর্যন্ত বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

রবিবার (২০ এপ্রিল) দল নিবন্ধনের আবেদনের শেষ দিনে সময় বাড়ানোর তথ্য জানান নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ।

এদিকে, সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো জানিয়েছে, রবিবার পর্যন্ত ৬৫টি দল নিবন্ধনের জন্য ইসিতে আবেদন করেছে। এর বাইরে আরও ৪৬টি দল নিবন্ধনের আবেদন জমা দেওয়ার সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে।

যেসব দল ইসিতে আবেদন করেছে তাদের মধ্যে বাংলাদেশ সংসারবন্দি পার্টি, বাংলাদেশ শান্তির দল, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন, জাতীয় ভূমিহীন পার্টি, বাংলাদেশ বেকার সমাজ, বাংলাদেশ জনপ্রিয় পার্টি, জনতার কথা বলে—এমন নামের দলও রয়েছে।

এসব দলগুলোর বেশির ভাগই নামসর্বস্ব। তাদের কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি এর আগে।

এর আগে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ৯৩টি দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিল। সেই সময়ও বেশিরভাগ দলই ছিল নামসর্বস্ব। তবে প্রাথমিক কাগজপত্র বাছাইয়েই বাদ পড়েছিল ৮১টি দলের আবেদন। প্রাথমিক বাছাই শেষে গণ অধিকার পরিষদ, এবি পার্টিসহ ১২টি দলের মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তবে শেষ পর্যন্ত নিবন্ধন দেওয়া হয়েছিল মাত্র দুটি দলকে। তবে সেই সময়ও নিবন্ধন পাওয়া দুটি দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টিকে (বিএসপি) নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য গত ১০ মার্চ গণবিজ্ঞপ্তি দেয় ইসি।

নবগঠিত এনসিপির পক্ষ থেকে নিবন্ধন আবেদনের সময়সীমা ৯০ দিন বাড়ানোর জন্য গত ১৭ এপ্রিল চিঠি দেয়। নিবন্ধনের আবেদন ও সময় বাড়ানোর দাবিতে আরও কিছু দল আবেদন করেছে বলে জানিয়েছে কমিশন।

ঘোষিত সময় ২০ এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করে বিকেল ৫টার পর সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিনের কমিশন সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানায়।

এর আগে গণবিজ্ঞপ্তিতে ইসি জানায়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৯০ক এর অধীন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন করতে ইচ্ছুক এবং রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৮-এ উল্লিখিত শর্তাবলি পূরণে সক্ষম রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচন কমিশন প্রদত্ত নির্দেশিকা মোতাবেক বিধিমালায় সংযোজিত ফরম-১ পূরণপূর্বক আগামী ২০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখের মধ্যে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করার আহ্বান জানানো যাচ্ছে।

প্রতি সংসদ নির্বাচনের পূর্বে নতুন দলের নিবন্ধন দিতে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে আবেদন আহ্বান করে ইসি। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল নিবন্ধন পেতে চাইলে তিনটি শর্তের যেকোনো একটি পূরণ করতে হয়। শর্তগুলো হলো—

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দরখাস্ত দাখিল করার তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের যেকোনো একটিতে দলীয় নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে কমপক্ষে একটি আসন লাভের সমর্থনে প্রামাণিক দলিল; অথবা

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দরখাস্ত দাখিল করার তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের যেকোনো একটিতে দরখাস্তকারী দল কর্তৃক নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা নির্বাচনি এলাকায় প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যার শতকরা পাঁচ ভাগ ভোট লাভের সমর্থনে কমিশন বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক ইস্যুকৃত প্রত্যয়নপত্র; অথবা

দলের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ, তা যে নামেই অভিহিত হোন না কেন, একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় দপ্তর, অন্যূন এক-তৃতীয়াংশ প্রশাসনিক জেলায় কার্যকর জেলা দপ্তর এবং অন্যূন একশটি উপজেলা বা, ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন থানায় কার্যকর দপ্তর এবং উক্তরূপ প্রতি উপজেলায় বা, ক্ষেত্রমত, খানায় অন্যূন দুইশ ভোটার সদস্য হিসেবে দলের তালিকাভুক্ত থাকার সমর্থনে প্রামাণিক দলিল।

নিবন্ধীকরণে আগ্রহী রাজনৈতিক দলকে স্বীয় লেটারহেড প্যাডে দরখাস্ত করতে হবে এবং দরখাস্তের সঙ্গে নিম্নলিখিত আবশ্যকীয় দলিলাদি সংযুক্ত করতে হবে-

  • দলের গঠনতন্ত্র
  • দলের নির্বাচনি ইশতেহার, যদি থাকে
  • দলের বিধিমালা, যদি থাকে
  • দলের লোগো এবং পতাকার ছবি
  • দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি বা সমমানের কমিটির সব সদস্যের পদবীসহ নামের তালিকা।
  • দলের নামে রক্ষিত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও ব্যাংকের নাম এবং উক্ত অ্যাকাউন্টের সর্বশেষ স্থিতি
  • দলের তহবিলের উৎসের বিবরণ
  • দলের নিবন্ধনের দরখাস্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুকূলে প্রদত্ত ক্ষমতাপত্র
  • নিবন্ধন ফি বাবদ অফেরতযোগ্য পাঁচ হাজার টাকা সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বরাবরে জমাকৃত ট্রেজারি চালানের কপি (ট্রেজারিতে টাকা জমাদানের কোড নম্বর-১০৬০১০১১০০১২৫-১১০০০০০০০-১১০০১০০০-১৪২২২০৪)

কোনো রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর উক্ত দলের অনুকূলে কমিশন ফরম-৩-এ একটি নিবন্ধন সার্টিফিকেট প্রদান করবে এবং নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশ করবে।